Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রাফিক কেস, ‘এম পরিবহণ’-এর নামে ফাইল পাঠিয়ে সাড়ে ৫ লক্ষের প্রতারণা, হরিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার যুবক

কেউ বেলেঘাটা, কেউ ইএম বাইপাস, কেউ ডালহৌসি ক্রসিং, কেউ আবার শ্যামবাজার মোড়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের মেসেজ আসে বাইক-গাড়িচালকদের কাছে।

ট্রাফিক কেস, ‘এম পরিবহণ’-এর নামে ফাইল পাঠিয়ে সাড়ে ৫ লক্ষের প্রতারণা, হরিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার যুবক
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ বেলেঘাটা, কেউ ইএম বাইপাস, কেউ ডালহৌসি ক্রসিং, কেউ আবার শ্যামবাজার মোড়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের মেসেজ আসে বাইক-গাড়িচালকদের কাছে। হোয়াটসঅ্যাপে আসে এম-পরিবহণের নামে চালান। আদতে সেটি একটি এপিকে ফাইল। তাতে ক্লিক করতেই ফোনের কন্ট্রোল প্রতারকের দস্তানায়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় লক্ষ লক্ষ টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে শহরের ছ’জন নাগরিক এভাবেই প্রতারকদের খপ্পড়ে পড়েছেন। প্রতারণার পরিমাণ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি। একাধিক অভিযোগের তদন্তে নেমে হরিয়ানা থেকে মূল ও একমাত্র অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের সাইবার থানা। ধৃতের নাম দীপক কুমার (২৯)। সে হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ, মাস ছ’য়েক ধরেই বিভিন্ন লোককে ভুয়ো এপিকে ফাইল পাঠিয়ে প্রতারণা জাল বিছিয়েছিল সে।

Advertisement

৩ অক্টোবর অভিযোগ দায়ের হয়। প্রথম প্রতারিত হন শিবশঙ্কর পট্টনায়েক। রেড রোডে গতিসীমা লঙ্ঘনের জেরে তাঁর মোবাইলে ১০০০ টাকার একটি চালানের মেসেজ আসে। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসায় কৌতূহল বশে তাতে ক্লিক করেন শিবশঙ্কর। তাতেই হ্যাক হয়ে যায় অভিযুক্তের ফোন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এম-পরিবহণের লোগো জাল করে তৈরি করা হয়েছে ওই এপিকে ফাইলটি। সেটি একটি বিশেষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বানানো হয়েছে। শিবশঙ্করের ফোন হ্যাক করার পর তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় দেড় লক্ষ টাকা। তারপর আরও পাঁচজন ব্যক্তির সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়। লালবাজার সূত্রে খবর, প্রত্যেক প্রতারিত ব্যক্তিই ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ কলকাতা পুলিশের হাতে আসে। 
মামলা রুজু করে তদন্তে নামে সাইবার থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, দেখা যায়, দু’টি ভুয়ো আইপি ব্যবহার করে গোটা প্রতারণা পর্বটি সাজিয়েছে অভিযুক্ত। ইনটেক ডিসি সাপোর্ট টিমের নেটওয়ার্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল এই দু’টি ভুয়ো আইপি অ্যাড্রেস। তদন্তে নামার পর পুলিশের হাতে আসে গুরগাঁওয়ের একটি আইপি অ্যাড্রেস। যার সূত্র ধরেই সন্ধান মেলে অভিযুক্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের। সেই অ্যাকাউন্টে দেওয়া কেওয়াইসি-র সূত্র থেকে অভিযুক্তের নাম, পরিচয়, ঠিকানা, বয়স, মোবাইল নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য পান তদন্তকারীরা। সোমবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সাইবার বিভাগের গোয়েন্দারা পাকড়াও করেন দীপক কুমারকে। হরিয়ানা থেকে অভিযুক্তকে শহরে নিয়ে আসা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ