


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: প্রথাগত যুদ্ধ আর নেই। প্রথাগত যুদ্ধের ধারণা বদলেছে। এখন অদৃশ্য এবং প্রথাবর্হিভূত হুমকি আসছে। ইনফরমেশন, ইডিয়োলজিক্যাল, ইকোলজিক্যাল এবং বায়োলজিক্যাল যুদ্ধ মোকাবিলায় সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে তিন সেনাবাহিনীর উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ‘আজকের যুদ্ধ হঠাৎ ও অনিশ্চিত। তার সময়কাল আগে থেকে বলা খুবই কঠিন। দু-মাস, একবছর আবার পাঁচবছরও হতে পারে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিন বাহিনীর সমন্বয় সম্পর্কে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তিন বাহিনীর মধ্যে যৌথতা ও সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশন সিন্দুর ও আত্মনির্ভরতার সাফল্য আমরা পেয়েছি। তিনি বলেন, শক্তি, কৌশল এবং আত্মনির্ভরতা এই তিনটি স্তম্ভই একুশ শতকে ভারতকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবে। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অদম্য সাহস, দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ও সিস্টেম ব্যবহার, এবং অসাধারণ পেশাদারিত্বের প্রশংসাও করেছেন। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য নিয়ে সোমবার উদ্বোধনী ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রতিরক্ষায় আধুনিকীকরণ ও আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের মূল ভিত্তি হল আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিশ্বস্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ‘জয়’ (জেএসআই) জয়েন্টনেস, আত্মনির্ভরতা ও ইনোভেশন মন্ত্রের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আত্মনির্ভরতা শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি কৌশলগত স্বয়ংসম্পূর্ণতার চাবিকাঠি—যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিপইয়ার্ড, এয়ারোস্পেস ক্লাস্টার ও প্রতিরক্ষা করিডরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। প্রসঙ্গত, আজ বুধবার শেষ হচ্ছে এই কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্স। এদিন বক্তব্য রাখবেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।