Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীনিকেতনে শুরু ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব

শুক্রবার থেকে শুরু হল শ্রীনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উৎসব ও মাঘ মেলা

শ্রীনিকেতনে শুরু ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শুক্রবার থেকে শুরু হল শ্রীনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উৎসব ও মাঘ মেলা। ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন সকালে শ্রীনিকেতনের ফ্রেস্কো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ডিরেক্টর ও বর্তমানে কেআইআইটি বিশ্ববিদ্যালয় (ভুবনেশ্বর)-এর জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ তপন কুমার আঢ্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। ১৯২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুঠিবাড়িতে প্রথম গ্রামোন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা করেন। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে শ্রীনিকেতন। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীনিকেতনে বার্ষিক উৎসবের সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই শ্রীনিকেতনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর এখানে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসবের পাশাপাশি একটি গ্রামীণ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। যা এলাকাবাসীর কাছে শ্রীনিকেতন মেলা বা মাঘ মেলা নামেই পরিচিত।

Advertisement

এবারও সেই ঐতিহ্য মেনেই সেজে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সানাই ও বৈতালিকের সুরে মেলার শুভ সূচনা হয়। এবছর প্রায় ২০০টি ছোট-বড় দোকানে ভরে উঠেছে মেলার মাঠ। এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কৃষি ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী।

মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে বিশাল আকারের নানা কৃষিজ ফসল। কোথাও মূলা, কোথাও বৃহৎ আকারের কুমড়ো ও আখ, আবার কোথাও চোখে পড়ছে বিশাল সর্ষে গাছের ঝাড়। পালংশাক, সূর্যমুখী, আম, আদা-সহ নানা কৃষিজ ফসলের পাশাপাশি রয়েছে নানা রঙের ফুলের সমাহার। মেলা প্রাঙ্গণের মাঝখানে রয়েছে একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ। সেখানে ব্রতী বালকদের খেলাধুলো, লোকসংগীত, সুফি ও বাউল গান, কীর্তন, গ্রামীণ কবি ও সাহিত্যিক সম্মেলন, কৃষি বিষয়ক আলোচনা সভা সহ একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদেশ সফরের নানা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্র ভবনের প্রদর্শনী এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কুটির শিল্প সামগ্রীর দোকানও মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শ্রীনিকেতনের এই বার্ষিক উৎসব ও মেলা। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, ছাত্রজীবনে এই মেলার সঙ্গে আলাদা অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। সেই সময়ে কাঁচা সবজি তুলে খাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করেন। গত চার দশকে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে তিনি জানান। ফলন বৃদ্ধির জন্য উন্নত বীজের পাশাপাশি সার ও জলের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এদিন, বিশ্বভারতীর সমাবর্তন প্রসঙ্গে জানান,  প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রস্তুতি চলছে। তিন বছর  সমাবর্তন হয়নি। তাই প্রতিবছর এই উৎসব করার চেষ্টা করছি।  ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ