Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ই ফার্মেসিকে চাপে রাখতে, ২০শে মে ওষুধের দোকান বন্ধের ডাক ব্যবসায়ীদের, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

ই ফার্মেসির বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যেতে এবার ২০ শে মে দেশজুড়ে  ধর্মঘটের ডাক দিল ওষুধের দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (এআইওসিডি)।

ই ফার্মেসিকে চাপে রাখতে, ২০শে মে ওষুধের দোকান বন্ধের ডাক ব্যবসায়ীদের, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা
  • ২ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ই ফার্মেসির বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যেতে এবার ২০ শে মে দেশজুড়ে  ধর্মঘটের ডাক দিল ওষুধের দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (এআইওসিডি)। তাদের সদস্য প্রায় ১২ লক্ষ ৪০ হাজার ওষুধের দোকানদার। যার অর্থ হল, ওইদিন দেশব্যাপী ওষুধ কেনাবেচার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা বন্ধ হতে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই মর্মে বিবৃতি তৈরি করে জেলা সংগঠনের কর্তাদের দেশের প্রত্যেক জেলাশাসককে সেই বিবৃতি প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্বেগের ব্যাপার হলো, এআইওসিডি ওষুধ ব্যবসায় দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হওয়ায় অন্যান্য পাল্টা সংগঠন সদস্যভুক্ত দোকানদাররা পরিষেবা যদি চালুও রাখে, দেশবাসীর ভোগান্তি আটকানো খুব কঠিন হবে। 

Advertisement

কিন্তু কেন এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল এআইওসিডি যার জেরে লক্ষ লক্ষ রোগী এবং তাঁদের পরিবার ওইদিন জীবনমৃত্যু সংকটে পড়তে পারে। সংগঠনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, আমাদের দাবি তিনটে। প্রথমত, দেশের স্বার্থে ই ফার্মেসি অবিলম্বে বন্ধ করা। তাঁর দাবি, অনলাইন ফার্মেসি চালু থাকায় ওষুধের সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভুয়ো প্রেসক্রিপশন বাজারে ঘুরছে। বিনা প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলি ইচ্ছাখুশি মতন ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে কমাচ্ছে।  তৃতীয়ত, ২০২০ সালের ২৬ শে মার্চ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক নির্দেশনামা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, দোকানদাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ পাঠাতে পারবেন। ওই বিশেষ পরিস্থিতির নির্দেশনামাকে ঢাল করে ই ফার্মেসি ব্যবসা করছে। এআইওসিডি'র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংহল বলেন, ২০শে মে আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। ই ফার্মেসির নামে মানুষের জীবনের সঙ্গে ছেলেখেলা চলতে পারে না। চাল, ডাল, আটা আর ওষুধ এক নয়। দোকানদারদের আরেকটি সংগঠন অল ইন্ডিয়া কেমিস্ট্রস এন্ড ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ সরকার বলেন, ই ফার্মেসির আমরাও ঘোরতর বিরোধী। তার মানে এই নয়, বনধ ডাকবো বা বনধকে সমর্থন করব। তাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোগান্তি হবে। ব্যাবসা নষ্ট হবে। তাছাড়া দিল্লি হাইকোর্টে তো ই ফার্মেসি নিয়ে একটা মামলা চলছে।

এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ শিল্পমহলের অনেকেই জানিয়েছেন, আসল কথা হলো, ই ফার্মেসির সঙ্গে পেরে উঠছে না ছোট এবং মাঝারি দোকানদাররা। এইসব যুক্তিগুলো স্রেফ চাপে রাখার জন্য। তার কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মচারী পাঠিয়ে ওষুধ পাঠানোর কাজ ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরাও করেন। আর ওষুধ ব্যবসাপ্রতিযোগিতায় আছে বলেই, ক্রেতারা ২০, ২২ শতাংশ, কোথাও ২৫ শতাংশও ছাড় পাচ্ছেন। এআইওসিডি এর নেতাদের পাল্টা দাবি, অবিশ্বাস্য রকমের ছাড় দেওয়া চাহিদা তৈরি হওয়ার জন্যই জাল ওষুধের রমরমা বাড়ছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক তুলে দেওয়ায় বাড়ছে ভয়ঙ্কর ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। এরও অবশ্য পালটা মত আছে। অসংখ্য ছোট এবং মাঝারি দোকানদারও প্রেসক্রিপশন না দেখেই বিক্রি বাড়াতে রোগীর বাড়ির লোকজনের হাতে অ্যান্টিবায়োটিক তুলে দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে দু'তরফে কয়েক বছর ধরে যে সংঘাত চলছিল, তা এখন আরো জটিল আকার নিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ