Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২০ মে দেশে ওষুধ দোকান বন্ধের ডাক ব্যবসায়ীদের, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা, ই-ফার্মেসিকে চাপে রাখার চেষ্টা

ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যেতে এবার ২০মে দেশজুড়ে  ধর্মঘটের ডাক দিল ওষুধের দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (এআইওসিডি)।

২০ মে দেশে ওষুধ দোকান বন্ধের ডাক ব্যবসায়ীদের, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা, ই-ফার্মেসিকে চাপে রাখার চেষ্টা
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৫:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধ, কলকাতা: ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যেতে এবার ২০মে দেশজুড়ে  ধর্মঘটের ডাক দিল ওষুধের দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (এআইওসিডি)। প্রায় ১২ লক্ষ ৪০ হাজার ওষুধের দোকানদার এই সংগঠনের সদস্য। এর অর্থ হল, ওই দিন দেশব্যাপী ওষুধ কেনাবেচার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা বন্ধ হতে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষনেতারা এই মর্মে বিবৃতি তৈরি করে প্রত্যেক জেলাশাসককে সেই বিবৃতি প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংগঠনের জেলাস্তরের কর্তাদের। উদ্বেগের বিষয় হল, এআইওসিডি ওষুধ ব্যবসায় দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হওয়ার কারণে অন্যান্য সংগঠনভুক্তরা পরিষেবা চালু রাখলেও দেশবাসীর ভোগান্তি এড়ানো কঠিন হবে। 

Advertisement

কিন্তু কেন এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল এআইওসিডি? সংগঠনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘আমাদের দাবি তিনটে। প্রথমত, দেশের স্বার্থে ই-ফার্মেসি অবিলম্বে বন্ধ করা। অনলাইন ফার্মেসি চালু থাকায় ওষুধের সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভুয়ো প্রেসক্রিপশন বাজারে ঘুরছে। বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বড়ো বড়ো ওষুধ কোম্পানিগুলি ইচ্ছাখুশি ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে-কমাচ্ছে। তৃতীয়ত, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক নির্দেশনামা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, দোকানদাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ পাঠাতে পারবেন। ওই বিশেষ পরিস্থিতির নির্দেশনামাকে ঢাল করে ই-ফার্মেসি ব্যবসা করছে।’ এআইওসিডি’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংহল বলেন, ‘২০ মে আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। ই-ফার্মেসির নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলতে পারে না। চাল, ডাল, আটা আর ওষুধ এক নয়।’ দোকানদারদের আরেকটি সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া কেমিস্টস এন্ড ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশন’র সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ সরকার বলেন, ‘ই-ফার্মেসির আমরাও ঘোরতর বিরোধী। তার মানে এই নয়, বন্‌ধ ডাকব বা তাকে সমর্থন করব। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোগান্তি হবে। ব্যবসা নষ্ট হবে। তাছাড়া দিল্লি হাইকোর্টে তো ই-ফার্মেসি নিয়ে একটা মামলা চলছে।’
এদিকে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ শিল্পমহলের অনেকেই জানিয়েছেন, আসল কথা হল, ই-ফার্মেসির সঙ্গে পেরে উঠছে না ছোটো এবং মাঝারি দোকানদাররা। এসব যুক্তি স্রেফ চাপে রাখার জন্য। তার কারণ, বাড়ি বাড়ি কর্মচারী পাঠিয়ে ওষুধ দিয়ে আসার কাজ ছোটো এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরাও করেন। আর ওষুধ ব্যবসা প্রতিযোগিতায় আছে বলেই ক্রেতারা ২০, ২২ শতাংশ, কোথাও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন। এআইওসিডি’র নেতাদের পালটা দাবি, অবিশ্বাস্য রকমের ছাড়ের চাহিদা তৈরি হওয়ার জন্যই জাল ওষুধের রমরমা। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক তুলে দেওয়ায় বাড়ছে ভয়ঙ্কর ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। এরও অবশ্য পালটা মত আছে। অসংখ্য ছোটো এবং মাঝারি দোকানদার প্রেসক্রিপশন না দেখেই বিক্রি বাড়াতে রোগীর বাড়ির লোকজনের হাতে অ্যান্টিবায়োটিক তুলে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে দু’তরফেই কয়েক বছর ধরে যে সংঘাত চলছিল, তা এখন আরও জটিল আকার নিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ