সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সীমান্ত বাণিজ্যে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমেছে পেট্রাপোল সীমান্তে। দেশের অস্থিরতায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০-৫০০ পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে যেত। ওদেশ থেকে ভারতে আসত প্রায় শ’দুই গাড়ি। সাম্প্রতিককালে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমেছে। এখন প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ ট্রাক বাংলাদেশে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পণ্য বোঝাই গাড়ি অনেকটাই কম আসছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও স্থলপথে ভারত থেকে সুতো আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ভারতের মাটি ব্যবহার করে বিদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য করত এতদিন। এতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে খরচ অনেকটাই কম হতো। এপ্রিলের শুরুতে সেই চুক্তি বাতিল করেছে ভারত সরকার।
অন্যদিকে পেট্রাপোল সীমান্ত পথে মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল সুতো। নতুন করে সুতো রপ্তানির অনুমতি না মেলায় ব্যবসা কমেছে। আগের বুকিং শেষ হলে ব্যবসা আরও কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশে অচলাবস্থা চলছে। ফলে সেদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা থেকেই যায়। ক্লিয়ারিং এজেন্ট সুমন বৈরাগী বলেন, ‘স্থলপথে এখন বাংলাদের সঙ্গে বাণিজ্য অনেকটাই কমেছে। তাতে কাজ কমে গিয়েছে আমাদেরও।’
সীমান্তে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যে গতি আনতে গত অক্টোবরে মৈত্রীদ্বার খুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বাণিজ্যে গতি এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘মৈত্রীদ্বার হওয়ায় বাণিজ্যে গতি এসেছিল। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্য কমেছে। এতে দু’দেশেরই ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাছাড়া স্থলপথে সুতো রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বাণিজ্য অনেকটাই কমেছে। মোট বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সুতো পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ওদেশে যেত।