অনির্বাণ রক্ষিত, কলকাতা: ভারতের কুর্সিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা বসেছেন তাঁদের প্রায় সকলকেই মনে রেখেছেন দেশবাসী। নেহরু-ইন্দিরা-রাজীবের মতো হেভিওয়েট তো বটেই, ইন্দ্রকুমার গুজরাল কিংবা দেবেগৌড়ার মতো নেতাদেরও মানুষ ভোলেনি। কিন্তু এই তালিকায় একটি নাম রয়েছে যিনি আজও একরকম বিস্মৃতই বলা যায়। তিনি একবার নয়, দু’দুবার দেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁর নাম গুলজারিলাল নন্দ।
Advertisement
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিল গুলজারিলালকে। ১৩ দিন কুর্সিতে ছিলেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী হন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে তাঁর রহস্যময় মৃত্যুর পর ফের কুর্সিতে সাময়িক ভাবে বসানো হয় তাঁকে। কিন্তু সেবারও ১৩ দিন ছিল তাঁর মেয়াদ। দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৮৯৮ সালে অবিভক্ত ভারতের শিয়ালকোটে জন্ম গুলজারিলালের। কেরিয়ার শুরু করেছিলেন আইনজীবী হিসেবে। প্র্যাকটিস করতেন এলাহাবাদে। পরবর্তীতে তিনি মুম্বইয়ের ন্যাশনাল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় মহাত্মা গান্ধীর। শোনা যায়, ‘জাতির জনক’ তাঁকে আহ্বান জানিয়েছিলেন স্বদেশি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য।
সেই শুরু। দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়তে গিয়ে দু’বার যেতে হয়েছিল জেলেও। আসলে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময়ই সোশ্যালিজমে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন। গান্ধীর সাক্ষাৎ সেই বিশ্বাসকেই আরও পোক্ত করেছিল। পরবর্তীতে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে নানা ভাবে জড়িয়ে পড়েন গুলজারিলাল। ১৯৫৭ সালে গুজরাতের সবরকণ্ঠা থেকে জিতে সাংসদ নির্বাচিত হন। পান শ্রমমন্ত্রকের দায়িত্ব। ১৯৯৭ সালে ভারতরত্নে ভূষিত হয়েছিলেন। পরের বছর শতবর্ষে পা রাখার আগেই প্রয়াত হন গুলজারিলাল। ব্যক্তিগত জীবনকে সব সময় সহজ, সরল রাখতে চেয়েছিলেন।
সেই শুরু। দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়তে গিয়ে দু’বার যেতে হয়েছিল জেলেও। আসলে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময়ই সোশ্যালিজমে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন। গান্ধীর সাক্ষাৎ সেই বিশ্বাসকেই আরও পোক্ত করেছিল। পরবর্তীতে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে নানা ভাবে জড়িয়ে পড়েন গুলজারিলাল। ১৯৫৭ সালে গুজরাতের সবরকণ্ঠা থেকে জিতে সাংসদ নির্বাচিত হন। পান শ্রমমন্ত্রকের দায়িত্ব। ১৯৯৭ সালে ভারতরত্নে ভূষিত হয়েছিলেন। পরের বছর শতবর্ষে পা রাখার আগেই প্রয়াত হন গুলজারিলাল। ব্যক্তিগত জীবনকে সব সময় সহজ, সরল রাখতে চেয়েছিলেন।



