নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারা জীবনের সঞ্চয় ভাঙিয়ে ফ্ল্যাট কেনে সাধারণ মধ্যবিত্ত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রোমোটার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দিতে পারেন না ক্রেতার হাতে। তখন দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বারবার ছুটতে হয় প্রোমোটারের দুয়ারে। এই যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাননি ক্যান্সার আক্রান্ত এক ব্যক্তি। টাকাপয়সা সব মিটিয়ে দেওয়ার পরেও দীর্ঘদিন ফ্ল্যাট পাননি তিনি। অবশেষে তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (রেরা) দ্বারস্থ হন। তাদের হস্তক্ষেপে বুকিংয়ের ১০ বছর পর অবশেষে রাজারহাটে নিজের ফ্ল্যাট পেয়েছেন তিনি। তারপরও অবশ্য ফ্ল্যাটের সব কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তাই সেখানে তিনি বসবাস শুরু করতে পারেননি। শীঘ্রই সেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না হলে তিনি ফের রেরা’র দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন ৪৫ বছরের এই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।
Advertisement
কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন কলকাতায় কাটিয়েছেন অভিযোগকারী। বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি একটি সংস্থায় কর্মরত তিনি। নতুন জায়গায় কাজে যোগ দেওয়ার এক বছর পর রাজারহাটে একটি ফ্ল্যাট কিনবেন বলে মনস্থির করেন তিনি। সেই মতো ফ্ল্যাট বুকিং করেন ২০১৪ সালে। ২০১৮ সালে পাওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালেও তাঁকে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে ২০২১ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ে তাঁর শরীরে। চিকিৎসার কারণে তাঁকে মাঝেমধ্যেই আসতে হয় কলকাতায়। এখানে নিজের ফ্ল্যাট থাকলে তাঁর খরচ কিছুটা হলেও সাশ্রয় হয়। কিন্তু এত বছর পরও ফ্ল্যাট না পেয়ে তিনি রেরা’র কাছে অনলাইনে অভিযোগ জানান। চিকিৎসাধীন এক ক্যান্সার আক্রান্তের কথা মাথায় রেখে রেরা সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরপরই তাঁর কেমোথেরাপি শুরু হয়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ, অভিযোগকারীর পক্ষে সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়া একেবারেই সম্ভব ছিল না তখন। তাই অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করে রেরা। শুনানি সহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর অবশেষে গত ডিসেম্বর মাসে ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পান তিনি। কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নির্মণিকারী সংস্থা একটি চাবি তাদের কাছে রেখেছে। সেই সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাসও দিয়েছে তারা। নজিরবিহীন এই তৎপরতার জন্য রেরা-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই ক্যান্সার আক্রান্ত।



