Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলে জলাশয় ভরাট করার অভিযোগ

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলে জলাশয় ভরাট করার অভিযোগ
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সাগরদিঘির জনবসতি এলাকায় বিশাল একটি জলাশয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। এক শ্রেণির জমি মাফিয়া রাতের অন্ধকারে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। জনবহুল এলাকায় ছাই দিয়ে জলাশয় ভরাট হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, নিকাশি নালা বন্ধ করে জলাশয় ভরাট চলছে। জলাশয় ভরাট বন্ধ করে সেখান থেকে ছাই তুলে ফেলার দাবি তাঁরা জানান। প্রশাসনের কাছে এনিয়ে অভিযোগও করা হয়। শুক্রবার তারই তদন্তে আসেন সাগরদিঘির বিএলএলআরও। পরিদর্শনে ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও। স্থানীয় বাসিন্দারা বিএলএলআরওকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেন। অবৈধভাবে জলাশয় ভরাটের কাজ চলায় সরব হন সভাপতিও। সাধারণ মানুষের সমস্যা হয় এমন কোনও কাজ করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Advertisement
সাগরদিঘির বিডিও সঞ্জয় শিকদার বলেন, ভূমিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সাধারণ মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। সাগরদিঘির পোপাড়ায় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বড় একটি জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। জলাশয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। জলাশয়টির পূর্বদিকে প্রায় ১০০মিটার দূরে সাগরদিঘি রেল স্টেশন। কিছুটা দূরেই এসএন হাইস্কুল। এছাড়া জলাশয়টির চারপাশেই বসত বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। রেলস্টেশনের পাশ দিয়েই নিকাশি নালা চলে গিয়েছে। ছাই পড়ে সেটিও বুজে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জনবসতি এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ভূমিদপ্তর, বিডিও অফিস সহ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পিটিশন জমা দেন। এদিন তারই তদন্তে আসেন বিএলএলআরও। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সামনে ক্ষোভ উগরে দেন বাসিন্দারা। 
স্থানীয় গৃহবধূ প্রিয়া ফুলমালি বলেন, গত মাস থেকে রাতের অন্ধকারে এই ভরাটের কাজ চলছে। ছাই উড়ে ঘরের খাবার থেকে জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ওদের বললেও কর্ণপাত করছে না। ছাই ফেলায় শিশুদের কাশি হচ্ছে। অপর বাসিন্দা আলোক ফুলমালি বলেন, এটা বহুদিনের জলাশয়। রাতের অন্ধকারে সেটিকে বুজিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এতে এলাকাবাসীর ক্ষতি হচ্ছে। এখান থেকে ছাই তুলে ফেলা হোক।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, গ্রামবাসীদের অভিযোগ পেয়েছি, এলাকাটি পরিদর্শন করেও এসেছি। চারপাশে এত মানুষের বসবাস সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলে কীভাবে? ছাই থেকে দূষণ ছড়াবে, সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এর ব্যবস্থা নিক।
বিএলএলআরও অতনু দাস বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এলাকায় গিয়েছিলাম। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
সাগরদিঘি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নুরে মেহবুব আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা প্রশাসনের সর্বস্তরে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা সমসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি। মানুষের ক্ষতি হয় এমন কাজ করতে দেওয়া যাবে না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ