সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: হাওড়া থেকে আসা স্কুল শিক্ষিকা তানিয়া মণ্ডল পুজোর পরেই বেরিয়ে পড়েছেন। সারা বছরের ব্যস্ততার পর ডুয়ার্সের নির্জন কোণে কয়েকটা দিন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে কাটাতে বেছে নিয়েছেন ঝান্ডিকে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে একই কারণে ডুয়ার্সরানীর কোলে ক’দিন নীরবে কাটাতে চান ব্যবসায়ী পিনাকি ঘোষাল। তিনিও ছুটে এসেছেন ঝান্ডিতে। দক্ষিণবঙ্গে গরম এখনও যাব যাব করেও যায় নি। কিন্তু এখানে রীতিমতো হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতে পড়ার আগেই শীতের আমেজ নিতে ডুয়ার্সের এখন পর্যটকদের ঢল। রিসর্ট, হোমস্টেগুলিতে যথেষ্ট ভিড়।
কথা হচ্ছিল হাওড়ার বাসিন্দা তানিয়াদেবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, পুজোয় কলকাতার গরমে ঘুরে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই ছুটি কাটাতে ডুয়ার্সে চলে এসেছি। সেখান থেকেই ঝান্ডিতে চলে এলাম! এখানে সারাদিন ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। ডুয়ার্সের নানা জায়গা দেখেছি। শরীরটা ভালো ছিল না। কিন্তু ঝান্ডিতে এসে মন চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। উত্তরের এই পাহাড়ি গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ।
পুজোর ক্লান্তি কাটিয়ে মন ও শরীরকে চাঙ্গা করতে এখন পাহাড়মুখী হয়েছেন দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকেরা। কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের অফবিট ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন ঝান্ডিতে এখন পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়। ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য আর কনকনে শীতের আমেজ উপভোগ করতেই তাঁরা এখানে ছুটে আসছেন। দক্ষিণবঙ্গে এখনও গরমের ভাব থাকলেও এখানে ইতিমধ্যেই রীতিমতো শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। ভেষজ গ্রাম নামে পরিচিত এই পাহাড়ি জনপদ এখন পর্যটকদের কাছে অন্যতম পছন্দের।
মালবাজারের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় ডুয়ার্স থেকে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। ঝান্ডির প্রধান আকর্ষণ ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ। একদিকে দেখা যায় ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। অন্যদিকে গোটা ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতল। পরিষ্কার আকাশে চোখে পড়ে চেল, রেলি ও ঘিস নদীর মিলনস্থল। যা তিস্তায় গিয়ে মিশেছে। রাতের অন্ধকারে এখান থেকে দেখা যায় শিলিগুড়ি শহরের আলো। নজরে আসে সিকিমের নামচি, দার্জিলিংয়ের লামাহাটা, লোলেগাঁওয়ের গুম্বাদাঁড়া। এমনকি ঝান্ডির পাশের সুনতলে থেকে ভুটানের ব্ল্যাক মাউন্টেনও দৃশ্যমান হয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এখানকার বাড়তি পাওনা।
স্থানীয় হোমস্টে মালিকদের একাংশ বলছেন, পাহাড় মানে শুধু বেড়ানো নয়। পাহাড়ের বুকে লুকিয়ে আছে শরীর ও মনকে সতেজ করার বহু প্রাকৃতিক সম্পদ। ঝান্ডি সেই ঠিকানা। চারদিকে সবুজ বন, পাখির ডাক আর সাধারণ মানুষের সহজ সরল জীবনযাত্রা। এখানে শহরের কোলাহল নেই। আছে নিশ্চিন্ত প্রকৃতির নীরবতা। ঝান্ডির বিশেষত্ব তার ভেষজ বৈচিত্রে।



