Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রকৃতি ও ইতিহাসের টানে পর্যটকের ভিড় আউশগ্রামের লবণধার গ্রামে

পুজোর ছুটিতে ভিড়ভাট্টা এড়াতে অনেকেই আসেন জঙ্গলমহলে বেড়াতে। সেরকমই একটি স্পট পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম-২ ব্লকের লবণধার গ্রাম।

প্রকৃতি ও ইতিহাসের টানে পর্যটকের ভিড় আউশগ্রামের লবণধার গ্রামে
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: পুজোর ছুটিতে ভিড়ভাট্টা এড়াতে অনেকেই আসেন জঙ্গলমহলে বেড়াতে। সেরকমই একটি স্পট পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম-২ ব্লকের লবণধার গ্রাম। প্রতি বছর পুজোর সময়ে এখানে ভিড় বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

Advertisement

মানকর থেকে ভাতকুন্ডা যাওয়ার রাস্তায় এই গ্রামটি পড়ে। প্রতি বছর পাতা ঝরার মরশুমে প্রায়ই আগুন লাগে জঙ্গলে। অভিযোগ ওঠে, সেই আগুন মানুষ লাগিয়েছে। কিন্তু জঙ্গলে আগুন লাগালে প্রকৃতির ক্ষতি হয়। সেই সচেতনতার পাঠ দিতেই গ্রামের কয়েকজন মিলে তৈরি করেন একটি সংগঠন। তাদের উদ্যোগেই  বাড়ির দেওয়ালে ছবি এঁকে প্রচার শুরু হয়। এখন সেই গ্রাম যেন একটা আস্ত ক্যানভাস। বিভিন্ন ছবি আঁকা হয়েছে সেই ক্যানভাসে। জঙ্গল রক্ষার বার্তা, গ্রাম্য জীবন যাপন থেকে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি সবই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেওয়ালে। গ্রাম দেখতে সারা বছরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। তবে পুজোর সময়ে ভিড় অনেকটাই বেড়ে যায় বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভাতকুন্ডার বাসিন্দা সুমন মণ্ডল বলেন, পুজোর সময়ে অনেকেই আউশগ্রামের জঙ্গলে ঘুরতে আসেন। এখানে লবণধারের পাশাপাশি রয়েছে ভালকি মাচান, কালিকাপুর জমিদার বাড়ি। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী মানকরে কবিরাজ বাড়ি, বিশ্বাস বাড়ি, রংমহল রয়েছে। রংমহলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তিনি জানান, পানাগড়ের আর্মি ক্যাম্প এখান থেকে খুব কাছেই। ক্যাম্পের ভেতর রয়েছে ক্ষেত্রপাল শিবমন্দির। তা দেখতেও অনেকে ভিড় করেন। তবে এখানে প্রবেশ করতে গেলে সচিত্র পরিচয়পত্র থাকা দরকার। 
কাঁকসার বাসিন্দা সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, লবণধার থেকে সোজা রাস্তা ধরে এলে কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর মোড়ে এসে ওঠা যায়। সেখান থেকে শ্যামরূপা মন্দির, ইছাই ঘোষের দেউল, আড়া শিবমন্দির দেখতে পারেন পর্যটকরা। কথিত আছে, গৌড়ের রাজা তখন দেবপাল। কাঁকসার জঙ্গল ঘেরা ত্রিষষ্টিগড়ের সামন্ত রাজা তখন কর্ণ সেন। তাঁর আশ্রিত সোম ঘোষের পুত্র ছিলেন ইছাই ঘোষ। তিনি ত্রিষষ্টিগড়ের মধ্যেই আলাদা ঢেকুরগড় স্থাপন করেন এবং নিজেকে স্বাধীন রাজা হিসেবে ঘোষণা করেন। ইছাই ঘোষের এই পদক্ষেপ মেনে নেননি কর্ণ সেন। শুরু হয় যুদ্ধ। ইছাই ঘোষের সঙ্গে যুদ্ধে কর্ণ সেন হেরে যান। জয়ের নিশান হিসেবে ইছাই ঘোষ গড়ে তোলেন সুউচ্চ শিখর দেউল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এখন তত্ত্বাবধান করছে দেউলটির। তাদের মতে, মধ্যযুগের শেষের দিকে এটি গড়ে তোলা হয়েছিল। দেউলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেউল পার্ক। দেউলে হরিণ ও ময়ূরদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় রয়েছে। সেটিও বর্তমানে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। তার থেকে প্রায় ছ’ কিলোমিটার দূরে শ্যামরূপা মন্দির। এখানে এক কাপালিক শ্যামরূপে মা কালীর দর্শন পান। তাই দেবীর নাম হয় শ্যামরূপা। এই নামটি কবি জয়দেবের দেওয়া। কথিত রয়েছে, অবিভক্ত বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো এখানেই হয়। আড়া শিবমন্দির সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন তৈরি করেছিলেন। সঞ্জয়বাবু বলেন, এক দিনেই এসে ঘুরে যাওয়া যাবে এই পর্যটনকেন্দ্রগুলি। তবে হাতে সময় থাকলে এর সঙ্গে ভরতপুরের বৌদ্ধস্তূপ, রণডিহা ব্যারেজ এবং চম্পক নগরে বেহুলা-লখিন্দরের বাসগৃহ দেখে যেতে পারেন পর্যটকরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ