নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: হিন্দুশাস্ত্র মতে নীলকণ্ঠ পাখি অবধ্য। বিজয়া দশমীর দিন নীলকণ্ঠ ওড়ানোর রেওয়াজ বহুদিনের। নানা পৌরাণিক অ্যাখান এই পাখিকে আজও শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে চলেছে। জঙ্গলমহল এলাকার মানুষজন দীর্ঘ সময় ধরে শস্যের কীটপতঙ্গ খেয়ে নেওয়া এই পাখির অনিষ্ট করেন না। ঝাড়গ্রামের মাঠে ও ঝোপঝাড়ে প্রচুর পরিমাণে নীলকণ্ঠ পাখির দেখা পাওয়া যায়। যার টানে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন।
নীলকণ্ঠ পাখির প্রজননকাল মার্চ থেকে জুন মাস। স্ত্রী নীলকণ্ঠকে আকৃষ্ট করতে পুরুষ পাখি এইসময় আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। নীলকণ্ঠ পাখির চোখের পাশে ও কাঁধে নীল রং রয়েছে। দেহের রং গোলাপির আভা যুক্ত বাদামি। শরীরের গঠন মোটাসোটা। ২৬-২৭সেন্টিমিটার লম্বা। স্ত্রী প্রজাতির নীলকণ্ঠ একবারে তিন-পাঁচটি ডিম পাড়ে। ১৭-১৯দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এরা মূলত পুরনো বড় গাছে বাসা বাঁধে। ডিম দেওয়ার জন্য গাছের কাণ্ডে গহ্বর তৈরি করে। উড়ন্ত অবস্থায় এদের লেজ ও ডানায় উজ্বল নীল বর্ণের জৌলুস দেখা যায়। ঝাড়গ্রামের মানুষ নীলকণ্ঠ পাখির পড়ে থাকা ডানার পালক ঘরে এনে রাখে। বিনপুর ও জামবনী ব্লকের মানুষের মুখে শোনা যায়, ‘নীলকণ্ঠ তুমি নীল থেক, দুধভাত খেয়, আমাদের কথা শিবকে জানিও।’ ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা ও ফটোগ্রাফার সুশান্ত হোতা বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়া দশমীর সময় নীলকণ্ঠ ওড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। জেলার আদিবাসী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা এখানে নীলকণ্ঠ পাখিকে রক্ষা করেছে। জেলার সকলস্তরের মানুষের কাছে এই পাখি খুব শুভ। রাস্তায় এই পাখি দেখলে দিনটি ভালো যাবে বলে অনেকে মনে করেন। ছেলেমেয়েরা বই-খাতার পাতার ভাঁজে এই পাখির পালক রেখে দেয়। শস্যের কীটপতঙ্গ খেয়ে নেয় বলে উপকারী পাখি হিসেবেও দেখা হয়। এইসব কারণেই অন্য জেলার তুলনায় এখানে বেশি নীলকণ্ঠ দেখা যায়।
বেলপাহাড়ীর এক পর্যটন ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষার সময় এখানে পর্যটকদের ভালো ভিড় হয়। নীলকণ্ঠ পাখির ওড়ার ছবি তুলতে ফটোগ্ৰাফাররা নানা জায়গা থেকে আসেন। পুরুষ পাখির আকাশে ওড়ার অপরূপ দৃশ্য দেখতে পাওয়ার সুযোগ অনেকেই হাতছাড়া করতে চান না।