Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘাগামী রেল পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পর্যটকদের

দীঘাগামী রেল পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পর্যটকদের
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রেলপথে সহজে দীঘা যাওয়ার জন্য পর্যটকদের স্বার্থে পদক্ষেপ নিক রেল। পাঁশকুড়া-দীঘা রেল লাইন নিয়ে রেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এই লাইনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। অথচ, প্রতি বছর কয়েক লক্ষ পর্যটক সংখ্যা বাড়ছে। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। পর্যটক ও জগন্নাথ ভক্তদের কথা মাথায় রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ রেলের নেওয়া উচিত বলে সোমবার অনেক পর্যটক, হোটেল মালিক এবং দীঘার ব্যবসায়ীদের দাবি। 

Advertisement

তমলুক থেকে দীঘা সিঙ্গল লাইন। নন্দকুমার, দেশপ্রাণ, কাঁথি ও রামনগর স্টেশনে একটি ট্রেন দাঁড় করিয়ে অপর ট্রেন ক্রসিং করানো হয়। ২০১৭ ও ২০২৪সালে পরপর দু’বার আশাপূর্ণা, নাচিন্দা এবং লবণ সত্যাগ্রহ তিনটি হল্ট স্টেশনকে পূর্ণ স্টেশন হিসেবে চালু করার জন্য সার্ভে ও মাপজোখ হয়েছে। কিন্তু, ওই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। ওই তিনটি হল্ট স্টেশনকে পূর্ণ স্টেশন করা হলে আরও বেশি জায়গায় ট্রেন ক্রসিংয়ের সুযোগ হতো। যার ফলে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো যেত।
২০০৩ সালের ২০নভেম্বর তমলুক থেকে কাঁথি লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তিন কামরার ডিজেল ইঞ্জিন চলাচল করত। ২০০৪সালের ৪নভেম্বর মাসে দীঘা পর্যন্ত ট্রেনের চাকা গড়ায়। মেচেদা থেকে দীঘা ডিজেল ইঞ্জিন চালানো শুরু হয়। পরবর্তীতে সাঁতরাগাছি থেকে আটটি কামরার ডিজেল ইঞ্জিন চলত। রবিবার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকত। ২০০৯-’১০সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ওই লাইনে বিদ্যুতায়নের কাজ হয়। ২০১১সালে দীঘা-সাঁতরাগাছি ইএমইউ লোকাল চালু হয়। তারপর পাঁশকুড়া থেকে দীঘা ট্রেন পরিষেবা চালু হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ওই লাইনে চারটি লোকাল শুরু হয়। এছাড়া দৈনিক, তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস এবং কাণ্ডারী এক্সপ্রেস চলাচল করে। কিন্তু, সিঙ্গেল লাইন হওয়ার কারণে অধিকাংশ দিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ট্রেন চলাচল করে। এর ফলে দীঘা যাওয়ার পর্যটকরা বাধ্য হয়ে ট্রেনের বদলে বাসের উপর নির্ভর করছেন।  তমলুক থেকে দীঘা পর্যন্ত মোট আটটি হল্ট স্টেশন রয়েছে। ওইসব স্টেশনে কোনও পানীয় জলের ব্যবস্থা কিংবা শৌচালয় নেই। ট্রেন থেকে নেমে গাছের আড়ালে প্রস্রাব করতে হয়। তিনটি হল্ট স্টেশন আশাপূর্ণা, নাচিন্দা লবণ সত্যাগ্রহ স্মারককে পূর্ণ স্টেশন করার জন্য ২০১৭সালে একবার জয়েন্ট ইন্সপেকশন হয়। তারপর ২০২৪সালে ফের লোকসভা ভোটের আগে আর এক দফায় ইন্সপেকশন হয়। কিন্তু, তারপর বছর ঘুরলেও কোনও ঘোষণাই নেই। লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক হল্ট স্টেশনের টিকিট বুকিং এজেন্ট ভরতচন্দ্র দাস বলেন, একসঙ্গে তিনটি হল্টকে পূর্ণ স্টেশন করা হলে ট্রেন সময়মতো চালাতে সুবিধা হতো। তাছাড়া ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো যেত। কিন্তু, দু’দফায় ইন্সপেকশনের পর এখনও সেটা হয়নি। মেচগ্রামের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা মোনালিসা পারভীন বলেন, পাঁশকুড়া থেকে দীঘা যাওয়ার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। একইসঙ্গে টাইম টেবিল অনুযায়ী ট্রেন চালানোর দিকে রেলের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এতে রেল আর্থিকভাবেও লাভবান হবে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, দীঘা আসা যাওয়ার জন্য রেলের পরিষেবা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন। আমরা এনিয়ে বহুবার দাবি জানিয়েছি।

সম্পর্কিত সংবাদ