


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাবা-মা হলেন পরমগুরু। তারপরই স্থান শিক্ষাগুরুর। বৃহস্পতিবার গুরুপূর্ণিমায় মন্ত্র পড়ে পরমগুরু বাবা ও মায়ের চরণবন্দনা করল অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়ারা। স্কুলের উদ্যোগে হল অভিনব গুরুবন্দনা অনুষ্ঠান। ছাত্র-ছাত্রীরা মা-বাবার চরণবন্দনা করে ফল ও মিষ্টি উপহার দেয়। এরপর স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চরণবন্দনা করে। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য, ছোট বয়সেই মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো।
এদিন সকালে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়ারা স্কুলে আসে। বিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছিল প্রণাম মঞ্চ। পঞ্চম ও ষষ্ট শ্রেণির ১২০ পড়ুয়া এবং তাদের বাবা, মা উপস্থিত হন। তাঁদের চেয়ারে বসানো হয়। সামনে হাঁটু মুড়ে সামনে বসে সন্তানরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীরা বাবা, মাকে পরমগুরু মেনে চরণবন্দনা করে। ‘গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরুদেব মহেশ্বর, গুরু সাক্ষাৎ পরমব্রহ্ম তস্মৈ গুরুভে নম...’ মন্ত্রোচ্চারণ করে বাবা-মাকে শ্রদ্ধা জানায়। তারপর ফল ও মিষ্টি দেয়। সন্তানরা বলে, ‘আমাদের আশীর্বাদ করো যাতে তোমাদের নাম উজ্জ্বল করতে পারি। মানুষ হতে পারি!’ প্রধান শিক্ষক মনোজ ঘোষ বলেন, ‘বাবা, মা হলেন পরমগুরু। গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা আমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু এখন তা হারিয়ে যেতে বসেছে। গুরুপূর্ণিমার দিন পরমগুরু বাবা, মাকে বন্দনা করার মধ্য দিয়ে সেই সংস্কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে জাগ্রত করতেই এই প্রচেষ্টা।’ তিনি জানান, পঞ্চম ও ষষ্ট শ্রেণির পড়ুয়াদের দিয়ে গুরুবন্দনা করা হল কারণ বড় হয়ে ওরা দেশের এই সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরবে।’ অভিভাবকরা বলেন, ‘অভিনব ভাবনা। অনেক সময় দেখা যায় পরিবারে কার্যত বঞ্চিত হয়ে যান বাবা-মা। সেই জায়গায় বিদ্যালয়ের এই প্রয়াস অনেকটাই কার্যকর হবে।’ অনেকের বক্তব্য, শত কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না বাবা-মায়েরা। উচ্চশিক্ষিত হয়ে মানুষ গড়ে তোলার কারিগর তো হবে এই সন্তানরাই। দেখা যায়, বৃদ্ধ বয়সে বাবা, মা একা হয়ে পড়েন। কেউ বৃদ্ধ বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমেও রেখে আসেন। সে মানসকিতায় বদল ঘটাতেই এই অনুষ্ঠান। পরমগুরু বাবা, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাঠ দিতেই গুরু পূর্ণিমার দিন অভিনব গুরুবন্দনার আয়োজন। - নিজস্ব চিত্র