নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: শুধু কুনজরই নয়। প্রেমিকার উপর যৌননির্যাতনও করেছিল টোটো চালক! তার প্রতিশোধ নিতেই খুনের পরিকল্পনা করেছিল নাবালক প্রেমিক। নিউটাউন কাণ্ডের তদন্তে এবং ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য জানতে পেয়েছে পুলিস। শুধু তাই নয়, টোটো চালক খুনে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সে-কথাও পুলিসকে জানিয়েছে ধৃত প্রেমিক ও তার বন্ধু। তারা জানিয়েছে, খুন করার জন্য তারা লুকিয়ে বিয়ার বোতল, সাইকেলের চেন হুইল এবং ছুরি সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছিল। টোটো থেকে নেমে দু’জন মিলে একসঙ্গে এলোপাথাড়ি হামলা করায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টোটো চালক।
রবিবার রাতে নিউটাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড় সংলগ্ন নিমবনানী পার্কের কাছে নৃশংসভাবে খুন হন টোটো চালক সুশান্ত ঘোষ। টোটোর পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তাঁর মৃতদেহ। ওই ঘটনায় তদন্তে নেমে রাতেই পুলিস প্রথমে এক দম্পতিকে আটক করে। তাদের জেরাও করা হয়। কারণ, ওই দম্পতির স্ত্রীর সঙ্গে টোটো চালকের ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল। কিন্তু, পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিস দু’জন ১৬ বছরের নাবালককে আটক করে। কারণ, তাদের দু’জনকে ওইদিন রাতে সুশান্তের টোটোয় চাপতে দেখা গিয়েছিল। দুই নাবালিকের মধ্যে এক নাবালক ওই দম্পতির মেয়ের প্রেমিক। অপরজন নাবালক প্রেমিকেরই বন্ধু। তার বয়সও ১৬ বছর। জেরায় তারা খুনের কথা স্বীকারও করেছে।
কিন্তু, কেন খুন করল তারা? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় প্রেমিক জানিয়েছে, টোটোচালক অনেকদিন ধরেই তার প্রেমিকার উপর কুনজর দিয়েছিল। কিছুদিন আগে ওই টোটো চালক প্রেমিকাকে যৌননির্যাতনও করেন। প্রেমিকার মুখ থেকে সে-কথা জানতে পেরেই ক্ষোভে ফুঁসছিল নাবালক প্রেমিক। তার বদলা নিতেই বন্ধুকে নিয়ে সে খুনের ছক করে। ওই রাতে তারা প্রথমে টোটো চালকের মাথায় সজোরে বিয়ারের বোতল দিয়ে আঘাত করে। বোতলটি ভেঙেই যায়! তাতে আহত হয়ে বসে পড়েন টোটো চালক। তারপরই সাইকেল চেন হুইল দিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা করা হয়। শেষে ছুরি দিয়ে কাটা হয় গলার নলি। এমনকী, প্রেমিকার উপর যৌননির্যাতনের রাগে মৃতের যৌনাঙ্গেও আঘাত করে তারা।
পুলিস জানিয়েছে, এই খুনে দু’জন নাবালকই যুক্ত। আর কারও যোগ পাওয়া যায়নি। আটক করার পরদিনই দুই নাবালককে সল্টলেকের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়েছিল। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। তারপর ফের পেশ করা হবে তাদের।