Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউটাউনে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে দোষী সাব্যস্ত টোটো চালক

বোনের সঙ্গে ঝগড়া করে রাতের বেলা বেরিয়ে গিয়েছিল ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রী। রাগ কমার পর বাড়ি ফেরার জন্য টোটোয় চেপেছিল সে।

নিউটাউনে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে দোষী সাব্যস্ত টোটো চালক
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বোনের সঙ্গে ঝগড়া করে রাতের বেলা বেরিয়ে গিয়েছিল ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রী। রাগ কমার পর বাড়ি ফেরার জন্য টোটোয় চেপেছিল সে। কিন্তু, টোটো চালক তাকে বাড়ি না পৌঁছে দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল নির্জন এলাকায়। নারকীয়ভাবে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছিল টোটো চালক। পরদিন সকালে অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিউটাউনের লোহাপুল এলাকার ওই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল ছড়িয়েছিল। অবশেষে ৬ মাসের মাথায় সোমবার  টোটো চালক সৌমিত্র রায় ওরফে রাজকে দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত জেলা পকসো আদালত। 

Advertisement

এই মামলার সরকারি পক্ষের বিশেষ আ‌ইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সরাসরি ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাতেই সৌমিত্রকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। আগামী কাল, বুধবার সাজা ঘোষণা হবে।’
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে। ওইদিন রাতে বোনের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল ১৪ বছরের ওই স্কুলছাত্রীর। মাকে চিরকুট লিখে দে রাতেই  বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। জগৎপুরের কাছে এসে রাগ ভাঙে। কিন্তু, ততক্ষণে হেঁটে হেঁটে সে অনেকটা পথ চলে গিয়েছিল। ক্লান্তও হয়ে পড়েছিল। তাই বাড়ি ফেরার জন্য সে সেখান থেকে সৌমিত্র রায়ের টোটোয় উঠেছিল। বাড়ির ঠিকানায় বলেছিল টোটো চালক কাকুকে। সৌমিত্র তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু, তাকে একা পেয়ে বাড়ি না পৌঁছে দিয়ে নিউটাউনের একাধিক এলাকা ঘুরে নিয়ে যায় লোহাপুলে।
সেখানে সে নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং হত্যা করে। ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে কিশোরীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পাশ ফিরে পড়েছিল তার দেহ। গায়ে ছিল নীল-খয়েরি রঙের হুডি। কিন্তু, নিম্নাঙ্গে কোনও পোশাক ছিল না। শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। মিলেছে রক্তের দাগও। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই গ্রেপ্তার হয় সৌমিত্র। খুন ও ধর্ষণের পরেও তার কোনও অনুশোচনা ছিল না। রাতে ফিরে স্ত্রীর পাশে শুয়ে পড়েছিল। এমনকী, স্ত্রীকে সেন্ট্রাল পার্কের কাছে মেলা দেখাতে নিয়ে গিয়ে সে ধরা পড়ে। নদীয়ার ধানতলা থানার দত্তফুলিয়ার মধ্যপাড়ায় তার আসল বাড়ি। তবে, সে নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে আদর্শপল্লিতে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকত।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় আদালতের কাছে মেডিক্যাল রিপোর্ট, ডিজিটাল এভিডেন্স, টেকনিক্যাল এভিডেন্স, বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স সহ একগুচ্ছ প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। তাতে ধর্ষণ ও খুনে সৌমিত্র রায়ের প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সৌমিত্র’র টোটোয় ওই কিশোরীকে দেখা গিয়েছে। ঘটনাস্থলের জিও ম্যাপিং, অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় দেখা যাওয়া যুবকই যে সৌমিত্র, তা প্রমাণ করার জন্য এই মামলায় গেট প্যাটার্ন টেকনোলজিও ব্যবহার করা হয়েছে। তাতে অভিযুক্তের হাঁটার ভঙ্গি প্রমাণ করা হয়েছে। ১৭ দিনের মধ্যে পুলিস চার্জশিট জমা করেছিল। ধর্ষণ, খুন, পকসো সহ ১৩৭ (২), ১৪০ (১), ১০৩ (১), ৬৫ (১), ৬৬ বিএনএস এবং ৬ পকসো অ্যাক্টে চাজর্শিট দেওয়া হয়েছিল। দোষী সাব্যস্ত হওয়া সৌমিত্র’র কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ