নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘যুবসাথী’র ক্যাম্পে সবচেয়ে ‘ভিড়’ বেশি এন্টালি ও টালিগঞ্জে। সরকারি ভাতা নেওয়ার জন্য আবেদনের শীর্ষে শহরের এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র। গত পাঁচ থেকে ছ’দিনে কলকাতায় যে ক্যাম্প চলছে, তার প্রতিটি শিবিরের গড় হিসেবে এই তথ্যই উঠে আসছে। সেখানে এটাও দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে কম আবেদনপত্র উঠেছে ভবানীপুর, রাসবিহারী ও শ্যামপুকুরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘সামাজিক সুরক্ষা’ কবচ নেওয়ার আগ্রহ যে এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, শহরজুড়ে চলা ক্যাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড়ই তার প্রমাণ বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
শহর তথা রাজ্যজুড়ে চলছে ‘যুবসাথী’র শিবির। সেখানে ভিড় করছেন ২১-৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা। কলকাতায় এই ক্যাম্পগুলি পরিচালনা করছে কলকাতা পুরসভা। সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ক’দিনে শহরে বিধানসভাওয়াড়ি প্রতি শিবিরে গড়ে সর্বোচ্চ ‘ফুটপ্রিন্ট’ বা আবেদনের শীর্ষে রয়েছে এন্টালি ও টালিগঞ্জ। যেখানে যথাক্রমে ১২৬২ ও ১১১০ জন এসেছেন। অন্যদিকে, সবথেকে কম আবেদনপত্র তোলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে, মাত্র ১৬৩ জন। কম আবেদনপত্র তোলার নিরিখে তারপরেই রয়েছে চৌরঙ্গি (২৪৯টি), শ্যামপুকুর (৩২২টি) ও রাসবিহারী (৩৩২টি)। পুরসভার এক কর্তা বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পের গড় আবেদনের নিরিখে এই ছবি উঠে এসেছে। কিন্তু, যদি গত পাঁচ-ছয় দিনের মোট আবেদনের হিসেব করা হয়, তাহলে সবথেকে বেশি আবেদন উঠেছে মেটিয়াবুরুজ ও বেলেঘাটা বিধনসভায়। ফর্ম তুলতে এসেছেন যথাক্রমে ১৬ হাজার ও ১১ হাজারের বেশি যুব। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার আশপাশের হিসেব এটাই। সবথেকে কম আবেদন উঠেছে, কলকাতার এমন পাঁচ থেকে ছ’টি বিধানসভার মধ্যে রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা শহরের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বন্দর এলাকা।
যুবসাথীর আবেদনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ছেলেরা বেশি আসছেন। মেয়েদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। মমতার মস্তিষ্কপ্রসূত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ‘সুবিধা’ পাওয়াটাই এর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তথ্য বলছে, বেহালা পূর্ব বিধানসভায় সবথেকে বেশি ছেলেরা ‘যুবসাথীর’ ফর্ম তুলেছেন, ৬৬.৩৯ শতাংশ। আর সবথেকে কম বালিগঞ্জ বিধানসভা, ৩৮.৩ শতাংশ। বিপরীতভাবে সবচেয়ে বেশি মেয়েরা যুবসাথীর ফর্ম তুলেছেন বালিগঞ্জে, ৬১.৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম কসবা বিধানসভার ৩৩.৫৬ শতাংশ মেয়েরা আবেদন তুলেছেন।
আধিকারিকদের বিশ্লেষণ, ক্যাম্পওয়ারি গড়ের নিরিখে তসপিয়া, ট্যাংরা, গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকায় আবেদনের হিড়িক অনেকটাই কম। ধারনা থাকে, শহরের এই সমস্ত এলাকাতেই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু হিসেব বলছে উল্টো। অন্যদিকে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে শহরের অন্যতম ‘পশ’ এলাকা টালিগঞ্জ আবেদনপত্র তোলার শীর্ষে উঠে আসছে।
শুরুতে ৩৫টি ক্যাম্প চলছিল শহরে। বৃহস্পতিবার থেকে আরও তিনটি ক্যাম্প বাড়িয়েছে পুরসভা। বামার লরি বিল্ডিং, টি-বোর্ড ও শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার সামনে ক্যাম্প চালু হয়েছে। এর মধ্যে বামার লরি বিল্ডিংয়ে সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) অফিস রয়েছে। এক পুরকর্তা বলেন, কর্মসূত্রে বহু ছেলে-মেয়ে কলকাতায় ডালহৌসি চত্বরে আসেন। তাঁরা কাজের ফাঁকে সুবিধা মতো এই শিবির থেকে ফর্ম নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু, আবেদন জমা করতে হবে তাঁদের নিজস্ব বিধানসভার ক্যাম্পে গিয়েই।