নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাসকে। তাঁর বাড়ি দিগনগর এলাকায়। তিনি দিগনগর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। অভিযোগ, দিগনগরের বিভিন্ন কারখানা ও দেশি মদ তৈরির কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোর করে টাকা আদায় করত। এনিয়ে গত শনিবার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শনিবার রাতেই দিগনগরের বাড়ি থেকে স্মরজিৎকে আটক করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে রবিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এই তোলাবাজি চলছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের ধারে চকদিগনগর ও দিগনগর এলাকায় একাধিক দেশি মদ তৈরির কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানায় প্যাকিংয়ের কাজ হয়, অন্যটি ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ওই ডিপোর দায়িত্বে রয়েছেন এক ঠিকাদার। অভিযোগ, ওই সমস্ত কারখানায় শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন স্মরজিৎ বিশ্বাস ও পীযূষ বিশ্বাস। দেশি মদের কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি পেটি অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দেওয়া হয়। পরে ঠিকাদার ওই টাকা শ্রমিক সরবরাহকারীদের হাতে তুলে দিতেন। অভিযোগ, শ্রমিক সরবরাহকারীরাই প্রাপ্য মজুরি থেকে টাকা কেটে রেখে বাকিটা শ্রমিকদের দিতেন। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। অতীতে প্রাপ্য মজুরি দেওয়ার জন্য শ্রমিকরা সরব হওয়ায় তাঁদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি স্মরজিৎ তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে কেউ সেভাবে মুখ খুলত না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার কোতোয়ালি থানায় স্মরজিৎ ও পীযূষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্বজিৎ অধিকারী নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চকদিগনগর ও দিগনগর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের থেকে তোলা আদায় করে স্মরজিৎ। তোলা দিতে অস্বীকার করলে শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হত। কারখানা গুলি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করত ও. দু’জন। কালীরহাটের ডিপোতে পণ্যসামগ্রী ওঠানো ও নামানোর কাজ হয়। কিন্তু, তাতে কোম্পানির পে-রোলে থাকা শ্রমিকরা কাজ করে না। এদের দু’জনের সরবরাহ করা শ্রমিকরা ওই কাজ করতেন। পরে কোম্পানি থেকে পাওয়া টাকা সরাসরি এই দু’জনের হাতে আসত। সেখান থেকে অনেকটা টাকা কেটে বাকিটা শ্রমিকদের দিত ওই দু’জন।
এবিষয়ে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ বলেন, আমাদের দল ক্ষমতায় এসে সমস্ত অনৈতিক কাজ বন্ধের উপর জোর দিয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে এব্যাপারে। প্রশাসনের তৎপর হয়েছে। অসাধু কাজের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়েছি। কোম্পানির ম্যানেজারের সঙ্গেও কথা বলেছি। শ্রমিকরা জানিয়েছেন এই ধরণের কিছুই নাকি হয় না। তারপরেও কেন গ্রেপ্তার করা হল, জানি না।