অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সাপ লুডোর খেলা চলছে আইএসএলে। যুবভারতীতে মোহন বাগানকে হারিয়েছে মুম্বই। পয়েন্ট খোয়াচ্ছে গোয়াও। রাতারাতি চোখ চকচকে অস্কার ব্রুজোঁর। পড়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার মিনি ডার্বিতে মিগুয়েলদের সামনে মহমেডান স্পোর্টিং। লিগ টেবিলে তলানিতে রেড রোডের পাশের ক্লাব। প্রত্যাবর্তনের সোনার সুযোগ ইস্ট বেঙ্গলের। ম্যাচের আগে রবিবার কোচ অস্কার বললেন, ‘সকলেই পয়েন্ট নষ্ট করবে। মোহন বাগানও গত ম্যাচে হেরেছে। ফায়দা নিতে হলে আমাদের সেরাটা মেলে ধরতে হবে।’ তবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও বেশ সতর্ক তিনি। বুক বাজিয়ে জিতবই বলার লোক কোথায়? অস্কারের ব্যাখ্যা, ‘কেরল ব্লাস্টার্সও শূন্য হাতে কলকাতায় এসেছিল। কিন্তু পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে। তাই মহমেডানকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই নেই।’ উল্লেখ্য, ২১ মার্চ এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইদের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকতে গেলে জিততেই হবে। কিন্তু প্রশ্ন, কতটা প্রস্তুত ইস্ট বেঙ্গল? ফুটবলাররা আগের চেয়ে চনমনে। কোচের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। বললেন, ‘ছোটো লিগ। তাই দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে।’ এদিন যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে অনুশীলনের আগে বেশ কিছুক্ষণ মিটিং সেরে নিলেন অস্কার। অনুশীলনে ইঙ্গিত মিলল, রক্ষণে আনোয়ারের সঙ্গে জিকসনের উপরেই আস্থা রাখছেন স্প্যানিশ কোচ। মাঝমাঠে দুই বিদেশি রশিদ ও সাউলকে ব্যবহার করতে পারেন তিনি। উইংয়ে বিপিনের সঙ্গে মিগুয়েলের ডানা মেলার সম্ভাবনা। আসলে গত তিন ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান মিডিওকে রুখে ইস্ট বেঙ্গলকে টেক্কা দিয়েছে প্রতিপক্ষ। মিডল করিডর দিয়ে তাঁর কারিকুরি ধরা পড়ে যেতেই বিকল্প ভাবনা কোচ অস্কারের। আপফ্রন্টে এজেজ্জারির সঙ্গে দেখা যেতে পারে ডেভিডকে। তবে অস্কার দ্বিধায় ভোগেন। চূড়ান্ত দল বাছাইয়ের আগে ভাবনা বদলালেও আশ্চর্য হওয়ার থাকবে না। যুবভারতীর বড় মাঠে পাস খেলার সুযোগ বেশি। মাঝমাঠ কবজা করে বিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ অস্কারের সামনে। গত মরশুমের কথা মনে করুন। টানা হারের পর কার্লোস কুয়াদ্রাতের চাকরি যায়। হটসিটে বসেন ব্রুজোঁ। মহমেডানের বিরুদ্ধেই প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিলেন সাউলরা। চলতি মরশুমেও তিন ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়ে বেশ চাপে মশালবাহিনী। টিম-ম্যানেজমেন্টের ধারণা, একটা বড় জয় পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে ব্যর্থ মহমেডান স্পোর্টিং। সোমবার মেহরাজ ব্রিগেডের কঠিন চ্যালেঞ্জ। পারফরম্যান্সের যা হাল মিনি ডার্বির তকমাও যায় যায়। সমর্থকরা উৎসাহ হারাচ্ছেন। গ্যালারি প্রায় ফাঁকা। কর্তারা নির্বিকার। একমাত্র ফুটবলারদের তাগিদই কোচ মেহরাজের ভরসা। তাঁর মন্তব্য, ‘সীমিত শক্তি নিয়েই লড়াই করব। আশা করি, সম্মানের যুদ্ধে ফুটবলাররা হতাশ করবে না।’ বল তাড়া করে প্রতিপক্ষের সব হিসাব গুলিয়ে দিতে চায় রেড রোডের পাশের ক্লাব।
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। সম্প্রচার ফ্যান কোড ও সোনি স্পোর্টসে।