লিডস: জুন মাসটা ভারতীয় ক্রিকেটের পক্ষে ভীষণই শুভ। টেস্টে পথ চলা শুরু ১৯৩২ সালের ২৫ জুন। কপিল দেবের নেতৃত্বে তিরাশির বিশ্বকাপ জয়ও জুনের ২৫ তারিখে। আবার যাঁর হাত ধরে দেশের ক্রিকেটে ফিরেছিল ‘আচ্ছে দিন’, সেই সিংহ হৃদয়ের সৌরভ গাঙ্গুলির উত্থানও জুনেই, লর্ডসে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। এসেছে বহু সাফল্য। নেতৃত্বের ব্যাটন হাত বদলাতে বদলাতে এখন তরুণ তুর্কি শুভমান গিলের দখলে। তাঁর নেতৃত্বেই শুক্রবার হেডিংলেতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের অভিযানে নামছে টিম ইন্ডিয়া। নেই রোহিত, কোহলির মতো মহাতারকা। আচমকাই তাঁদের অবসর বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে ভারতীয় দলে। সেই অভাব পূরণ করে এগিয়ে চলার কঠিন চ্যালেঞ্জ গিল বাহিনীর সামনে। আশা-আশঙ্কার দোলাচলেই স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। সিরিজ শেষে ভারতীয় শিবিরে তারুণ্যের জয়গান শোনা যাবে, নাকি সঙ্গী হবে হতাশা— তার উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডের মাটিতে এখনও অবধি তিনটি টেস্ট সিরিজ জিততে পেরেছে ভারত। অর্থাৎ ঘরের মাঠে ইংরেজদের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০০৭ সালে শেষবার রানির দেশে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। গতবারও সাফল্যের খুব কাছে পৌঁছেছিল দল। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু ওলট পালট হয়ে যায়। স্থগিত থাকা সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে সমতা ফিরিয়েছিল ইংল্যান্ড। কোহলি, রোহিতের মতো মহাতারকার অনুপস্থিতির কারণে এবার অনেক বিশেষজ্ঞই স্টোকস বাহিনীকে এগিয়ে রাখছেন। কেউ বলছেন, ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে জিতবে। অনেকে আবার ৪-১ ফল দেখছেন রুটদের পক্ষে। সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে বিলেতের মাটিতে তেরঙ্গা পতাকা ওড়ানোই লক্ষ্য গিলদের। তার জন্য প্রয়োজন দলগত সংহতি ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে হেডিংলের পিচ। কিউরেটরের কাছে স্টোকসরা নাকি পছন্দের উইকেটের আবদার জানিয়েছেন। এর মধ্যে চমক কিছু নেই। সব দেশই হোম গ্রাউন্ডে খেলার সুবিধা নেয়। তবে লিডসে এখন বেশ গরম। উইকেটও শুকনো। উপরে সবুজ আভা দেখা গেলেও পরের দিকে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই এখনও ঝুলে টিম ইন্ডিয়ার প্রথম একাদশ চয়নের কাজ। তবে গিল চারে ও পাঁচে ঋষভের ব্যাট করায় শিলমোহর পড়ে গিয়েছে। দুরন্ত ফর্মে থাকা যশস্বী ওপেন করবেন। সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে লোকেশ রাহুল। ধোঁয়াশা রয়েছে তিন নম্বর স্লট নিয়ে। এই পজিশেনে ব্যাট করার দাবিদার মূলত দু’জন—সুদর্শন ও করুণ নায়ার। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে সেটাই দেখার।
ছয় ব্যাটার ও পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্যাপ্টেন গিল। অর্থাৎ ছ’নম্বরে ব্যাটিং অলরাউন্ডার চাইছেন তিনি। এখানেও লড়াই জোরদার। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো শার্দূল ঠাকুরের সঙ্গে নীতীশ রেড্ডির। তিন স্পেশালিস্ট পেসার হতে পারেন যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিং। অতিরিক্ত জোরে বোলার খেলালে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার কপাল খুলতে পারে। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে জাদেজা এগিয়ে কুলদীপের চেয়ে।
শেষ পাঁচটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে চারটিতে। তবে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি স্টোকসদের। তাই তাদের সামনেও এবার অন্য চ্যালেঞ্জ। ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করবেন জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট। তিনে তুলে আনা হয়েছে ওলি পোপকে। গত নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি ব্যাট করেছিলেন ছ’নম্বরে। বড় ইনিংস খেলতে পারেন। তবে ইংরেজদের ব্যাটিংয়ের আসল স্তম্ভ জো রুট। দুরন্ত ফর্মেও রয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যশপ্রীত বুমরাহর দ্বৈরথ দারুণ জমবে। মিডল অর্ডারে হোম টিমের বড় ভরসা হ্যারি ব্রুক, অলরাউন্ডার স্টোকস ও জেমি স্মিথ। তবে বোলিংয়ে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। চোট সারিয়ে ফেরা ক্রিস ওকসের সঙ্গী হবেন ব্রাইডন কার্স ও জস টঙ্গা। একমাত্র স্পিনার শোয়েব বশির হয়ে উঠতে পারেন তুরুপের তাস।