Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আজ ফাইনাল, বিরাট-বরুণ অস্ত্রে ট্রফিতে চোখ ভারতের

আজ ফাইনাল, বিরাট-বরুণ অস্ত্রে ট্রফিতে চোখ ভারতের
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

দুবাই: মরুশহরে মহারণ! রবিবারের কাপযুদ্ধে ধারে, ভারে, ফর্মে ও দাপটে ভারতই ফেভারিট। তেল খাওয়া মেশিনের মতোই মসৃণ দেখাচ্ছে রোহিত ব্রিগেডকে। অশ্বমেধের ঘোড়ার মেজাজে দৌড়চ্ছে টিম ইন্ডিয়া। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের পর কচুকাটা হয়েছে নিউজিল্যান্ডও। সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় এসেছে অনায়াসে। ফাইনালে সেই টগবগে আত্মবিশ্বাসই সঙ্গী গৌতম গম্ভীরের ছাত্রদের। 

Advertisement

দুবাইয়ের মন্থর গতির পিচে চার স্পিনার খেলানো হয়ে উঠেছে মাস্টারস্ট্রোক। দুরন্ত ঘূর্ণির জালে অসহায় হয়ে পড়ছে বিপক্ষ। ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তী তো রীতিমতো বিধ্বংসী! রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবও ছন্দে। অক্ষর প্যাটেল আর রবীন্দ্র জাদেজার কাজ আবার ক্রমাগত ডটবলে ব্যাটসম্যানকে নাজেহাল করে যাওয়া। চলতি আসরে এই চার স্পিনারের মিলিত শিকার-সংগ্রহ ২৫! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিশ্চিতভাবেই স্পিনারদের ৪০ ওভার রোহিতের সেরা অস্ত্র। 
স্পিনার অবশ্য নিউজিল্যান্ডেরও কম নেই। অধিনায়ক স্যান্টনার ছাড়াও রয়েছেন ব্রেসওয়েল, ফিলিপস, রাচীন রবীন্দ্র। তবে লড়াইটা দু’দলের স্পিনারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারতীয় ব্যাটিং বনাম কিউয়ি ফিল্ডিং—এভাবেও দেখা যায় ফাইনালেকে। ভুললে চলবে না, তুখোড় ফিল্ডিংয়ে যে কোনও সময় মোড় ঘোরানোর ক্ষমতা ধরেন কিউয়িরা। কিন্তু ভারতের শক্তি, আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার। আর প্রত্যেকেই ফর্মে। গভীরতা এতটাই যে, ঋষভ পন্থের জায়গা হচ্ছে ড্রেসিং-রুমে!
অধিনায়ক রোহিত যদিও বড় রান পাননি। ‘হা রে রে রে’ করে মারতে গিয়ে প্রতি ম্যাচেই ফিরছেন দ্রুত। ভাইস-ক্যাপ্টেন শুভমান গিলও শেষ দুই ম্যাচে দশের গণ্ডি পেরোননি। তবে সেই চাপ ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিয়েছেন কোহলি। চাপের মুখে রান পেয়েছেন শ্রেয়স আয়ার, অক্ষর প্যাটেল, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়ারা। শিশির না পড়ায় টস অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর রোহিত এমনিতেই টস হারের বিশ্বরেকর্ডের সামনে। নিউজিল্যান্ড নিশ্চয়ই চাইবে, প্রথমে ব্যাট করে ভারতের ঘাড়ে বড় রানের বোঝা চাপিয়ে দিতে। সেক্ষেত্রে রাতে বরুণকে খেলার ঝুঁকি থাকবে না। অবশ্য তা বিরাট কোহলিকে রান তাড়া করার নেমন্তন্ন পাঠিয়ে রাখার মতোই। থাকছে তিরতিরে জল্পনাও। এটাই পঞ্চাশ ওভারে রোহিত-বিরাটের শেষ ম্যাচ হবে না তো?
নিউজিল্যান্ডের আবার রয়েছেন কেন উইলিয়ামসন। সদ্য সেমি-ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। বিরাটের মতো গ্ল্যামার আর ফলোয়ার না থাকলেও নিঃসন্দেহে তিনি মহারথী। লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বুধবার শতরান করেছেন রাচীনও। তিনি আগামীর তারকা হিসেবে চিহ্নিত। গত ১৮ মাসে আইসিসি ইভেন্টে বাঁ-হাতির পাঁচটা সেঞ্চুরি রয়েছে। রাচীনকে দ্রুত ফেরানোর দায়িত্ব মহম্মদ সামিরই। ড্যারিল মিচেল, টম লাথাম, ফিলিপসদের উপস্থিতিতে কিউয়ি মিডল অর্ডারও শক্তপোক্ত।
আর তাই নিউজিল্যান্ড কোনওভাবেই আন্ডারডগ নয়। আইসিসি ইভেন্টের নকআউটে ব্ল্যাক ক্যাপসরা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের পথের কাঁটায় পরিণত। ২৫ বছর আগে নাইরোবিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেই সৌরভ গাঙ্গুলির দলকে হারিয়েছিলেন ক্রিস কেয়ার্নসরা। ম্যাঞ্চেস্টারে ২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে মার্টিন গাপ্টিলের থ্রোয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির রান আউট চুরমার করেছিল স্বপ্ন। বিলেতে ২০২১ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও নিউজিল্যান্ড বশ মানায় বিরাট কোহলি বাহিনীকে। বছর দেড়েক আগে আরব সাগরের পারে একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে অবশ্য কিউয়ি বধ করেন রোহিতরা। তবে তাতে পুরনো জ্বালা জুড়োয়নি। তার উপর টাটকা ক্ষতও রয়েছে। ছ’মাসও হয়নি, ঘরের মাঠে ভারতকে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে নিউজিল্যান্ড। সেই দলের বেশ কয়েকজন রবিবার দুবাইয়ে খেলবেন। প্রতিশোধ, বদলার আগুন তাই ভারতীয় শিবিরে দাউদাউ করে জ্বলাই উচিত। আর তা জ্বলছেও। সঙ্গী হচ্ছে বিপক্ষকে তুবড়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতা। এই ভারত কিন্তু একেবারেই আলাদা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ