নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার পাড়ায় পাড়ায় সাদা পোশাকে হানা দেবে পুলিশ। শব্দবাজি ফাটলেই হবে ধরপাকড়। প্রতি বছরই কালীপুজো ও দীপাবলিতে স্থানীয় থানার পুলিশ এলাকায় টহল দেয়। তাও বিরামহীন শব্দবাজির দাপট থেকে সমাজকে মুক্ত করা যায়নি। তবে নবান্ন এবার বাজির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কড়া নির্দেশিকা জারি করে নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। তবে কোনো শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। তারা শব্দমাত্রাও বেঁধে দিয়েছে। বলেছে, সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত আওয়াজ হতে পারে। সব থানাকে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে লালবাজার। সেইসঙ্গে থানাগুলিকে এও বলা হয়েছে, প্রতিটি অলিগলিতে এই নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে সাদা পোশাকে টহল দিতে হবে পুলিশকর্মীদের। প্রয়োজনে তাঁরা অটোয় করে টহল দেবেন। শব্দবাজি ফাটলেই ‘অ্যাকশনে’ নামবে ওই বাহিনী। চলবে ধরপাকড়।
লালবাজার সূত্রে খবর, লালবাজারের স্পেশাল রেইড সেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কালীপুজোর আগের দিন থেকে এলাকায় এলাকায় টহল শুরু হবে। এই শাখাকে কয়েকটি টিমে বিভক্ত করা হয়েছে। শহরের যে সব এলাকা শব্দবাজির জন্য ‘কুখ্যাত’, পুলিশের খাতায় যে সমস্ত এলাকা স্পর্শকাতর বা হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে, সেখানে বিশেষ নজর দেবে এই স্পেশাল রেইড সেল। এইসব এলাকা হল মূলত বেলেঘাটা, মানিকতলা, ট্যাংরা, তপসিয়া, তিলজলা, মুকুন্দপুর, উল্টোডাঙা, হরিদেবপুর, পর্ণশ্রী, তারাতলা ও বন্দর সংলগ্ন এলাকা। লালবাজার জানিয়েছে, এইসব এলাকায় স্ট্যাটিক টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জোন ভিত্তিতে বিভিন্ন অলিগলিতে সাদা পোশাকের পুলিশ টহল দেবে অটোয় চেপে। সাধারণ মানুষ যাতে সন্দেহ করতে না পারেন, তাই এই ব্যবস্থা বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
এইসব অটোতে থাকবে বিশেষ ওয়্যারলেস সিস্টেম। সেই যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে কলকাতা পুলিশের কন্ট্রোল রুমের। শব্দবাজি ফাটানোর কোনো অভিযোগ লালবাজারের কন্ট্রোলরুমে এলে তা সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট অটোয়। একইসঙ্গে পাঠানো হবে অভিযোগকারীর নির্দিষ্ট লোকেশন। সেই লোকেশন দেখে দ্রুত সেই জায়গায় পৌঁছে যেতে পারবেন সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা। শব্দবাজির পাশাপাশি, সাইলেন্স জোনগুলিতেও বিশেষ নজর রাখবে স্পেশাল সেল। হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশে বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেখানে বাজি ফাটালেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, শব্দবাজি ফাটালে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে, সমস্ত বাজিও বাজেয়াপ্ত করবেন স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীরা। ভূত চতুর্দশী, কালীপুজো ও দীপাবলির রাতে শহরে নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার পুলিশকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। শিয়ালদহ, আমহার্স্ট স্ট্রিট চত্বর এবং চেতলা এলাকায় বেশ কিছু বড়ো পুজোর আয়োজন হয়। সেই এলাকায় প্রতিমা দর্শনে মানুষের বাড়তি উন্মাদনা দেখা যায়। সেই মোতাবেক সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে লালবাজার।



