বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ‘মেলা’ মানে মিলনস্থল। মেলা মানে প্রিয়জনের থেকে ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ও। সেই ছোটবেলা থেকে কমবেশি সকলেই শুনে আসছেন মেলার মাঠে হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের গল্প। যাঁরা বারবার গঙ্গাসাগর বা কুম্ভে গিয়েছেন, হাঁটতে হাঁটতে নিশ্চয়ই ক্ষণিকের জন্য চোখে পড়েছে ঠাসা ভিড়ে প্রিয়জনকে খুঁজতে থাকা উৎকণ্ঠিত মুখ। বাবার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মা বা ছেলে। ছেলের অপেক্ষায় বৃদ্ধা বাবা অথবা মা! অনেকে ফেরেন। কেউ কেউ আবার চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান। সপ্তাহ ঘোরেনি, শুরু হয়েছে কলকাতা বইমেলা। হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে শুক্র, শনি, রবিবার—তিনদিনই। তিনদিনই অবশ্য বইমেলা ফিরিয়েও দিয়েছে নিখোঁজদের তাঁদের প্রিয়জনের কাছে।
Advertisement
শুক্রবার ৪০ বছরের শোভন (নাম পরিবর্তিত) নামে বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি যখন ফিরলেন তাঁর বাবার কাছে, জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না বৃদ্ধের! বাবার হাত ছিটকে দমদম পার্কের ওই বাসিন্দা ঘুরতে ঘুরতে চলে গিয়েছিলেন ফুডকোর্টে। ভালো গাইতে পারেন তিনি। বসে খোলা গলায় গাইছিলেন। দেখে, কৌতূহলী হয়ে দুই বইপ্রেমী তাঁকে বাড়ি ফেরার টাকা দেন। এদিকে গরম লাগছিল দেখে বাবা আগেই তাঁর সোয়েটারটি খুলে দেওয়ায় প্রথমে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। শেষে লাগাতার ঘোষণা শুনে পুলিসকর্মীরা খুঁজে বের করেন। রাতে গিল্ড অফিসে অপেক্ষারত বৃদ্ধ বাবার কাছে যখন নিয়ে যাওয়া হয়, রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধ। রাত তখন ৯টা।
শনিবার পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা এক গৃহবধূও প্রায় ৫ ঘণ্টা ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ফিরলেন স্বামী ও কন্যার কাছে। তিনজনই মেলায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ স্বামী ও কন্যা তাঁকে আর দেখতে পারছিলেন না। পরে জানা যায়, সুকন্যা মুখোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই বধূ অডিটোরিয়ামে ঢুকে বিভোর হয়ে অনুষ্ঠান শুনছিলেন। অনেক পর ঘোষণা শোনেন। পুলিসকর্মীদের সাহায্য চান। এদিকে ৫ ঘণ্টা ধরে স্ত্রী ‘নিখোঁজ’ দেখে ততক্ষণে চোখে জল স্বামীর। বছর চোদ্দোর মেয়ে কনীনিকা (নাম পরিবর্তিত) অবশ্য শক্ত ছিল। এমনকী রবিবার দুপুরেও মেলায় শোনা গেল ঘোষণা—‘রবিন (নাম পরিবর্তিত) পোদ্দার তোমার জন্য বাবা অপেক্ষা করছেন’...গিল্ড অফিসের উল্টোদিকেই এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টলে গিয়েছিল ছোট্ট রবিন। স্কুলড্রেস পরা রবিনের সঙ্গে ছিল স্কুলের ম্যাডামরা। ছিলেন বাবাও। কোনওভাবে বাবার থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। এক-একবার নিখোঁজ ঘোষণা হচ্ছিল আর ছোট্ট বাচ্চাটির জন্য উৎকণ্ঠা বাড়ছিল মেলায়। কিছুক্ষণ পর ঘোষণা থামে। ঘোষকের দায়িত্ব সামলানো ঈশিতা মুখোপাধ্যায় ও রাজদীপ সেনও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। কারণ, ছোট্ট রবিনকে ফিরে পেয়েছেন বাবা!
নামকরা প্রকাশক শ্রীবিন্দু ভট্টাচার্য ছিলেন বাবা। পেশায় মিউজিক থেরাপিস্ট ঈশিকা আর তরুণ বাচিক শিল্পী রাজদীপ কলকাতা বইমেলায় গিল্ড অফিসে ঘোষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বছরকয়েক হল। দু’জনে বলছিলেন, ‘নিখোঁজ’ ঘোষণার সময় অনুষ্ঠান চললে তার ভলিউম কমিয়ে দেওয়া হয়। যাতে অডিটোরিয়ামগুলির মধ্যেও শোনা যায় ঘোষণা। তাছাড়া মেলায় কোনও ছোট বাচ্চাকে একা গেট দিয়ে বেরতে দেওয়াও হয় না।
গর্বের সঙ্গে দু’জনেই বললেন, এই ক’বছরে একবারও এমন হয়নি, যেখানে বইমেলায় আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি প্রিয়জনকে। বছরকয়েক আগে একটি পোষা বাচ্চা বিড়াল হারিয়েছিল। তন্নতন্ন করে খুঁজে উদ্ধার করা হয়েছিল তাকেও! -নিজস্ব চিত্র
শনিবার পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা এক গৃহবধূও প্রায় ৫ ঘণ্টা ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ফিরলেন স্বামী ও কন্যার কাছে। তিনজনই মেলায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ স্বামী ও কন্যা তাঁকে আর দেখতে পারছিলেন না। পরে জানা যায়, সুকন্যা মুখোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই বধূ অডিটোরিয়ামে ঢুকে বিভোর হয়ে অনুষ্ঠান শুনছিলেন। অনেক পর ঘোষণা শোনেন। পুলিসকর্মীদের সাহায্য চান। এদিকে ৫ ঘণ্টা ধরে স্ত্রী ‘নিখোঁজ’ দেখে ততক্ষণে চোখে জল স্বামীর। বছর চোদ্দোর মেয়ে কনীনিকা (নাম পরিবর্তিত) অবশ্য শক্ত ছিল। এমনকী রবিবার দুপুরেও মেলায় শোনা গেল ঘোষণা—‘রবিন (নাম পরিবর্তিত) পোদ্দার তোমার জন্য বাবা অপেক্ষা করছেন’...গিল্ড অফিসের উল্টোদিকেই এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টলে গিয়েছিল ছোট্ট রবিন। স্কুলড্রেস পরা রবিনের সঙ্গে ছিল স্কুলের ম্যাডামরা। ছিলেন বাবাও। কোনওভাবে বাবার থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। এক-একবার নিখোঁজ ঘোষণা হচ্ছিল আর ছোট্ট বাচ্চাটির জন্য উৎকণ্ঠা বাড়ছিল মেলায়। কিছুক্ষণ পর ঘোষণা থামে। ঘোষকের দায়িত্ব সামলানো ঈশিতা মুখোপাধ্যায় ও রাজদীপ সেনও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। কারণ, ছোট্ট রবিনকে ফিরে পেয়েছেন বাবা!
নামকরা প্রকাশক শ্রীবিন্দু ভট্টাচার্য ছিলেন বাবা। পেশায় মিউজিক থেরাপিস্ট ঈশিকা আর তরুণ বাচিক শিল্পী রাজদীপ কলকাতা বইমেলায় গিল্ড অফিসে ঘোষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বছরকয়েক হল। দু’জনে বলছিলেন, ‘নিখোঁজ’ ঘোষণার সময় অনুষ্ঠান চললে তার ভলিউম কমিয়ে দেওয়া হয়। যাতে অডিটোরিয়ামগুলির মধ্যেও শোনা যায় ঘোষণা। তাছাড়া মেলায় কোনও ছোট বাচ্চাকে একা গেট দিয়ে বেরতে দেওয়াও হয় না।
গর্বের সঙ্গে দু’জনেই বললেন, এই ক’বছরে একবারও এমন হয়নি, যেখানে বইমেলায় আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি প্রিয়জনকে। বছরকয়েক আগে একটি পোষা বাচ্চা বিড়াল হারিয়েছিল। তন্নতন্ন করে খুঁজে উদ্ধার করা হয়েছিল তাকেও! -নিজস্ব চিত্র



