Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টানা কুয়াশায় শীতকালীন সব্জির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, খসে যাচ্ছে আমের মুকুল

টানা কুয়াশায় শীতকালীন সব্জির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, খসে যাচ্ছে আমের মুকুল
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোরের দিকে এবং বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলার মানুষ ঘন কুয়াশার সাক্ষী। কখনও কখনও তার ঘনত্ব এতটাই যে, সামান্য দূরের জিনিসও ঠাহর করা যাচ্ছে না। স্বভাবতই জনজীবনে তার প্রভাব পড়েছে। মন্থর হয়েছে গতি। এদিকে, কুয়াশার কারণে মাথায় হাত চাষিদের। কুয়াশার চাদর ক্ষতি করেছে শীতকালীন সব্জির। আমের মুকুলেও প্রভাব পড়েছে তার। তবে আশার কথা একটাই, বৃষ্টি হয়নি। এই পর্বে বৃষ্টি হলে সাড়ে সর্বনাশ হতো চাষবাদের।
Advertisement
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, বনগাঁ এবং বসিরহাট মহকুমা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় সব্জির ভাণ্ডার বলেই পরিচিত। এইসব অঞ্চল টানা কুয়াশায় মুড়ে রয়েছে গত এক সপ্তাহ ধরে। যা চিন্তা বাড়িয়েছে চাষিদের। শীতে ফুল, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ ভালো হয়। এবছর ফুলকপির ফলন এতটাই হয়েছে যে, বাজারে দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। বহু জমিতে এখনও কপি রয়ে গিয়েছে। এদিকে, কুয়াশায় চারদিক আচ্ছন্ন থাকায় জমিতে থাকা ফুলকপি ফুটে যাচ্ছে। ফুলও জমাট বাঁধছে না। শিশিরের বিন্দু ফুলকপির উপর পড়তেই ফুটে যাচ্ছে ফুল। স্বাভাবিকভাবেই চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একইভাবে আলুচাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আলুচাষ খুব একটা না হলেও আমডাঙা, দেগঙ্গা, বারাসত ২ নম্বর ব্লক, হাড়োয়া, মিনাখাঁয় বিক্ষিপ্তভাবে কেউ কেউ আলুচাষ করেন। যাঁরা জমি থেকে আলু তুলে নিয়েছেন বা তোলার কাজ শুরু করেছেন, তাঁদের খুব একটা ক্ষতি হবে না। কিন্তু যে সব জমিতে আলু এখনও রয়েছে, কুয়াশার জেরে সেসবে ধসা রোগ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আমডাঙার চাষি শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, কুয়াশার কারণে এমনিতেই ক্ষতি হয়েছে আলুর। এভাবে কুয়াশা চলতে থাকলে ক্ষতির বহর আরও বাড়বে। টম্যাটো চাষেও এর প্রভাব পড়বে।
একইভাবে কুয়াশার প্রভাবে চাষে ক্ষতি হয়েছে ভাঙড়ে। পোকামাকড়ের দাপট বেড়েছে। সেই পোকার থাবার নষ্ট হতে বসেছে নানা ধরনের শাকসব্জি। ফসল বাজারজাত করার আগেই তাতে পচন ধরছে। চালতাবেড়িয়ার কৃষক দীপক ঘোষ বলেন, কয়েকদিনের কুয়াশা আমাদের ব্যাপক ক্ষতি করে দিয়েছে। আলু গাছে পচন ধরেছে। সব্জির গাছে ফুল ধরতেই সেগুলি পড়ে যাচ্ছে। ভাঙড়ে মটরশুঁটি, সর্ষে, ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ বেশ কিছু সব্জি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়াশা না কাটলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
এদিকে, জাঁকিয়ে শীত পড়তেই বহু আম গাছে মুকুল এসেছে। কিন্তু কুয়াশার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম চাষিরা। বারাসত, দত্তপুকুর সহ উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কিছু জায়গায় আম চাষ হয়। সেসব জায়গায় গাছে মুকুল আসার মুখে কুয়াশা থাবা বসানোয় অঙ্কুরেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আম চাষের অভিজ্ঞতা এবং হর্টিকালচার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ইতিমধ্যেই চাষিরা আম গাছে কীটনাশক ও জল স্প্রে করতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি বোরো ধানের বীজতলা তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কুয়াশার কারণে সেই কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। কারণ কুয়াশায় বীজতলা লাল হয়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে কদম্বগাছির আম চাষি সিরাজ খাঁ বলেন, প্রায় ১০০টি আম গাছ ভাড়া নিয়ে চাষ করছি। কিন্তু কুয়াশার জেরে বহু মুকুল পড়ে যেতে বসেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ