নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রং তার ধবধবে সাদা। শুধু কানে আছে খয়েরি ছোপ। বেশ গোলুমলু, নরমসরম, স্বভাবও শান্ত। কিন্তু এভাবে বললে কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে সন্তানতুল্য টমুকে? নিশ্চিত হতে পারেননি তরুণ দীপব্রত সেনগুপ্ত। তাই একরাশ বেদনা নিয়ে, অপত্য স্নেহের আবেগে চুঁচুড়া শহরের একাংশে পোস্টার দিয়েছেন তিনি। তাতে আছে টমু’র ছবি আর বাড়ির ফোন নম্বর। সঙ্গে আকুল আবেদন, দয়া করে উপকার করুন। এহেন পোস্টার ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। রেললাইন লাগোয়া শহর হওয়ায় ‘সন্ধান চাই’ বিজ্ঞাপনের সঙ্গে চুঁচুড়ার মানুষ কমবেশি পরিচিত। কিন্তু বিড়াল নিখোঁজের বিজ্ঞাপন ইহজন্মে কেউ দেখেছেন বলে মনে করতে পারছেন না। হ্যাঁ, টমু ওরফে টমটম আসলে একটি পূর্ণবয়স্ক বিড়াল। এক তরুণের সাধের পোষ্য।
Advertisement
গত ১৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে আচমকা নিখোঁজ যায় হয়ে যায় টমু। দীপব্রতর বাড়ি চুঁচুড়ার জোড়াঘাট এলাকায়। কয়েকদিন এদিক-ওদিক খোঁজাখুঁজি করলেও টমুকে পাননি তিনি। এদিকে, সাধের টমটম গায়েব হয়ে যাওয়ায় নাওয়া-খাওয়া মাথায় উঠেছে দীপব্রতর। এ নিয়ে মাথাব্যথা কম নয় তাঁর বাবারও। কারণ, ছেলে ব্যবসায় সাহায্য করত তাঁকে। টমু গায়েব হতেই ছেলেও কাজে ডুব দিতে শুরু করেছে। ফলে ব্যবসার সব চাপই এসে পড়েছে উত্তরপাড়ার গাড়ির শোরুমের মালিক ঋতব্রত সেনগুপ্তর উপর। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চুঁচুড়ায় পোস্টার দিতে শুরু করেছেন দীপব্রত। সাধের টমুকে খুঁজে বের করতে এটাই তাঁর ‘অন্তিম’ লড়াই। এই পোস্টার পড়তেই শোরগোল পড়েছে শহরে। চায়ের দোকানে চলছে মস্করা। কেউ আবার পোষ্যের জন্য প্রাণান্তকর প্রয়াসকে কুর্ণিশ করছেন। কিন্তু এসবে মন নেই দীপব্রতর। তিনি বলেন, তিনটি ফোন নম্বর দিয়েছি। কেউ কি খুঁজে পাবে না? উদ্বিগ্ন জেলার পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির যুক্তমঞ্চের কর্তা গৌতম সরকারও। তিনি বলেন, পোষ্যের জন্য ভালোবাসা আক্ষরিক অর্থেই শর্তহীন। তবে বিড়াল সাধারণত বাড়ি ছেড়ে নড়ে না। তাই ভয় পাচ্ছি।
সেনগুপ্ত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জোড়াঘাটের রাস্তা থেকে দিন পনেরোর বিড়াল শাবক টমটমকে তুলে এনেছিলেন দীপ। সেও বহুদিনের কথা। তারপরে ভালোবেসে নাম রেখেছিলেন টমটম। অপত্য স্নেহে কোলেপিঠে বড় করেছেন তাকে। সেই টমু আচমকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত দীপব্রতর জীবনযাত্রা। তাঁর মা রূপা সেনগুপ্ত টমুর থেকে বেশি ভাবছেন ছেলের হালচাল নিয়ে। বলছেন, ও যে মুখে কুটোটি কাটছে না। কী যে করি, বুঝতে পারছি না। বুঝতে পারছেন না নাগরিক সমাজের অনেকেই। নিজস্ব চিত্র
সেনগুপ্ত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জোড়াঘাটের রাস্তা থেকে দিন পনেরোর বিড়াল শাবক টমটমকে তুলে এনেছিলেন দীপ। সেও বহুদিনের কথা। তারপরে ভালোবেসে নাম রেখেছিলেন টমটম। অপত্য স্নেহে কোলেপিঠে বড় করেছেন তাকে। সেই টমু আচমকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত দীপব্রতর জীবনযাত্রা। তাঁর মা রূপা সেনগুপ্ত টমুর থেকে বেশি ভাবছেন ছেলের হালচাল নিয়ে। বলছেন, ও যে মুখে কুটোটি কাটছে না। কী যে করি, বুঝতে পারছি না। বুঝতে পারছেন না নাগরিক সমাজের অনেকেই। নিজস্ব চিত্র



