নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সিমলা থেকে ফিরে মদের আসরে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে রাতভর পড়ে থাকল মৃতদেহ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ এনায়েতুল্লা ওরফে রেহান (৩৫)। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বেলঘরিয়ায় রাজীবনগরে শ্যুটআউটের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল লাগোয়া একাধিক বাড়িঘর থাকলেও রাতে কেউ গুলির শব্দ না পাওয়ায় রহস্য তীব্র হয়েছে। মৃত যুবকের মাথায় ও ঘাড়ে গুলি লেগেছে। পাঁচ সন্দেহভাজনকে পুলিস ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সুশান্ত রায়, মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী ওরফে ঋজু এবং অভিজিৎ দাস ওরফে অভি, মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী ওরফে ঋজু, অমর মণ্ডল এবং মনোজ রাবানি ওরফে নাটা। তাঁরাও প্রত্যেকে তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।
কামারহাটি পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া এলাকা রাজীবনগর। এলাকাটি কামারহাটি, বরানগর, দক্ষিণ দমদম ও উত্তর দমদম পুরসভার সীমানাবর্তীও বলা চলে। এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি এখান দিয়ে গিয়েছে শিয়ালদহ-বারাকপুর, শিয়ালদহ-ডানকুনি রেললাইন এবং দক্ষিণেশ্বর মেট্রো। এসব এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বিক্রির পাশাপাশি নেশা ও সাট্টার ঠেকে নানা অসামাজিক কাজকর্ম চলে বলে অভিযোগ। একাধিক থানার সীমানাবর্তী হওয়ায় পুলিসের নজরদারি কম। বাসিন্দারা আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর দু’য়েক আগেও রাজীবনগরে রাজত্ব চালাত ধৃত সুশান্ত রায়। কিন্তু স্থানীয় কাউন্সিলার দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় রেহান এলাকার দখল নেয়। মাস ছ’য়েক আগে সুশান্তকে মারধর করে এলাকাছাড়া করা হয় বলেও অভিযোগ।
রেহান গত ২৩ মার্চ স্ত্রী সপরিবারে সিমলা বেড়াতে যান। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি ফেরেন। খাওয়াদাওয়া সেরে আবার বেরিয়ে যান। রাত ১১টা নাগাদ স্ত্রীকে ফোন করে রেহান বলেছিলেন, ‘আমার আসতে দেরি হবে।’ বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৭০ মিটার দূরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃতদেহের পাশ থেকে মদের বোতল ও কয়েকটি গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সাউথ) অনুপম সিং বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণেই এই খুন।’ রেহানের মা চাঁদসোয়ানি বিবি বলেন, ‘ও প্রোমোটারি করত। সুশান্ত রায় আগেও বন্দুকের বাট দিয়ে ওকে মেরেছিল। হুমকি দিয়ে বলেছিল, এলাকা ছেড়ে চলে যা। নাহলে গুলি করে খুন করব।’ কাউন্সিলার দেবযানী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কী কারণে খুন, তা পুলিস বলতে পারবে।’ ধৃত সুশান্তের পরিবারের দাবি, রেহান দলবল নিয়ে এলাকায় সিন্ডিকেট চালাত। তারাই সুশান্তকে এলাকাছাড়া করেছিল। এখন মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। নিজস্ব চিত্র