নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার এক হাজার সভা করার টার্গেটসহ সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়ল তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। জনসংযোগের ক্ষেত্রে ত্রিস্তরীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল থেকে। টানা তিনমাসের ঠাসা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ‘অঞ্চলে আঁচল’ নামে একটি কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। রাজ্যের ৩৪৫টি অঞ্চলে একটি করে সভার পরিকল্পনা তাদের। এছাড়াও এই পর্বে পুরসভা ভিত্তিক ১২৭টি শহরাঞ্চলে ৫টি করে সভার কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। কলকাতা পুরসভা এলাকায় উত্তরে ৮টি এবং দক্ষিণে ১২টি সভা করা হবে। ফলে সব মিলিয়ে সভার সংখ্যা (৩৪৫+ ৬৩৫+২০) এক হাজার। এই গোটা কর্মসূচি চলবে ১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ মে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের কর্মসূচি শুরু হবে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘তোমার ঠিকানা উন্নয়নের নিশানা’। এই পর্বের কর্মসূচিতে বাড়ি বাড়ি প্রচারপত্র বিলি করবেন তৃণমূল মহিলা শাখার কর্মীরা। এই উপলক্ষ্যে স্লোগান থাকবে, ‘দিদি মহিলাদের সাথে, মহিলাদের পাশে’। নারী সমাজের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কর্মসূচিগুলিকে প্রচারে তুলে আনবে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। এছাড়াও ১ জুলাই প্রতি জেলায় রক্তদান শিবির এবং ১ বৈশাখের দিন কলকাতার গিরিশ পার্ক থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত শঙ্খযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূলের মহিলা শাখা। ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের কর্মসূচি থেকে জনসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রেক্ষিতেই ঠাসা কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূলের মহিলা সংগঠন। রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, ‘বাংলার মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের যে সম্পর্ক রয়েছে, তা আরও নিবিড় করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা একদিকে যেমন মহিলা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করব, তেমনই মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির কথা বিস্তারিতভাবে সাধারণ মানুষকে জানানো হবে। মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করে আমরা এগিয়ে চলব।
নির্বাচনে মহিলা ভোট যে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক, তার প্রমাণ বারবার পাওয়া গিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও মহিলা ভোট এসেছিল তৃণমূলের বাক্সে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা ভোট আরও বেশি মাত্রায় নিশ্চিত করতে এপ্রিল থেকে বিশেষভাবে কর্মসূচিমুখী হয়ে উঠবে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস।