Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরের তোড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল

কেশপুরের তোড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কেশপুর ব্লকের তোড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হল তৃণমূল। সমবায় সমিতির জয়ে উচ্ছ্বসিত ব্লক তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ৯টি আসনের সবকটিতে‌ই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। বিরোধী দলগুলি একটি আসনেও প্রার্থী দিতে পারেনি। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, কেশপুর ব্লকের বেশিরভাগ সমবায় সমিতির ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। মূলত বুথস্তরে সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্যই বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি পিছিয়ে পড়ছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দেশিকা অনুসারে ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। তৃণমূলের তরফে ৯টি আসনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ছিল স্ক্রুটিনি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বিরোধী দলগুলি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াতে অংশ নেয়নি।
কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, একসময় বিরোধীদলগুলির অত্যাচারের কথা ভুলে যায়নি কেশপুরের মানুষ। বর্তমানে কেশপুরে শান্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এলাকায় উন্নয়নের ধারা বজায় আছে বলেই মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। বিরোধী দলগুলিকে তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তোড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার দীপক মল্লিক বলেন, মানুষকে পরিষেবা দেওয়া আমাদের মূল কর্তব্য। আগামী দিনে সমবায় সমিতির উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এই সমবায় সমিতি মানুষের পাশে সর্বদা থাকবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালে প্রথম সমবায় সমিতি গঠিত হয়। গ্রাম্য পরিবেশে ছোট্ট একটা ঘরেই ছিল সমিতির অফিস। সেখান থেকেই অল্প পরিমাণে টাকা কৃষকদের লোন দেওয়া হতো। ধীরে ধীরে এই সমবায় সমিতির পরিসর বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে ৫০০ টাকা লোন দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সাল নাগাদ সমবায় সমিতিতে আমানত প্রকল্প শুরু হয়। লোন দেওয়া ছাড়াও সমবায় সমিতির তরফে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার দেওয়া হয়। বহু মানুষ সার কিনে উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া সমবায় সমিতির নিজস্ব কমিউনিটি হল তৈরি হয়েছে। সেখানে অল্প খরচে সামাজিক অনুষ্ঠান করতে পারে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি সমবায় সমিতির তরফে একাধিক দোকান ঘর তৈরি করা হয়েছে। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে এই সমিতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃতীয় স্থান ও কেশপুর ব্লকের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কাজেও এগিয়ে এই সমবায় সমিতির সদস্যরা। তাদের উদ্যোগে বস্ত্রদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও এই সমিতির সদস্যরা উপকার করে থাকেন। বর্তমানে এই সমবায় সমিতির আমানতকারী প্রায় ৩০০০। অপরদিকে কৃষি লোন নেন ৭৫০ জন কৃষক। এই সমবায় সমিতির উন্নতির পিছনে অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন প্রাক্তন ম্যানেজার গগণচন্দ্র মাঝি। তিনি বলেন, মানুষের পাশে সর্বদা আছি। দিন দিন এই সমবায় সমিতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ