Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে দলেরই ‘বহিরাগত’দের দাপটে নাজেহাল বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব

বারাসতে দলেরই ‘বহিরাগত’দের দাপটে নাজেহাল বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পঞ্চায়েত থেকে পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের একাংশ নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্যের এলাকায় গিয়ে ‘মাতব্বরি’ করছেন। দিনের পর দিন এই ঘটনায় রীতিমতো তিতিবিরক্ত বারাসতের তৃণমূল নেতৃত্ব। কিছু নেতার এহেন ‘আগ্রাসী’ মনোভাব জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে আক্ষেপ করছে তারা। সামনেই ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। 

Advertisement

২০০৯ সাল থেকে টানা চারবার বারাসত লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে বারাসত সহ শহরাঞ্চলগুলিতে তৃণমূলের ফল যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করে জোড়াফুল শিবির। কিছু গ্রামীণ এলাকায়ও ফল খারাপ হয়েছে তৃণমূলের। এই লোকসভার অন্তর্গত বারাসত বিধানসভায় দলের পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যেসব এলাকায় ৫০-এর বেশি ভোটে হার হয়েছে,  সেসব ক্ষেত্রে বাড়তি নজর দিতে হবে। তারপরেও হেলদোল নেই নেতাদের একাংশের। তাঁরা নিজেদের এলাকায় নজর না দিয়ে অন্যের এলাকায় অযথা নাক গলাচ্ছেন বলে দাবি তৃণমূলের একাংশের। অনেক কাউন্সিলার তাঁর চেয়ে তুলনামূলক কম ‘ওজনদার’ কাউন্সিলারের ওয়ার্ডে দাপাদাপি করছেন। বারাসত পুরসভা লাগোয়া বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার নেতারাও কাউন্সিলারদের একাংশের মদতে শহর দাপাচ্ছেন বলে অভিযোগ। 
প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বারাসত পুরসভায় মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ছ’টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল তৃণমূল। বারাসত শহরের একাধিক সিআইসি বিপুল মার্জিনে পিছিয়ে গিয়েছেন নিজেদের ওয়ার্ডে। অভিযোগ, তারপরেও বদলননি নেতারা। এক নেতার কথায়, ‘অনেক কাউন্সিলার পিছন থেকে অবৈধ কাজে মদত দিচ্ছেন। বেনামে বহু সম্পত্তির মালিক হয়ে গিয়েছেন কয়েকজন। বোন, ছেলে, ভাইপো বা শ্যালকের নামেও সম্পত্তি কিনছেন। ঘুরপথে সেই সম্পত্তির দখল নিচ্ছেন তাঁরা।’ তৃণমূলের স্থানীয় এক নেত্রীর দাবি, ‘বহিরাগত নেতাদের কারণে জনমানসে খারাপ প্রভাব পড়ছে। বাইরের নেতাদের দাপাদাপিতে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। পঞ্চায়েতের নেতাদের শহরে এসে এত দাপটের কারণ কী, জানা নেই।’ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দলের শীর্ষস্তরে অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন ওই নেত্রী। এ বিষয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘এরকম কোনও বিষয় জানা নেই।’ বিজেপি নেতা তাপস মিত্রের টিপ্পনি, ‘আসলে তৃণমূলের নেতারা জানেন যে তাদের লাগাম টানার কেউ নেই। তাই কাটমানির জন্য যা ইচ্ছে তাই করছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ