Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

নাম বাদ যাওয়া ভোটারের তুলনায় কম ব্যবধানে জয়, তৃণমূলকে আলাদা মামলা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় এনআইএ’কে আগামী দু’ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হল।

নাম বাদ যাওয়া ভোটারের তুলনায় কম ব্যবধানে জয়, তৃণমূলকে আলাদা মামলা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে যেসব আসনে এসআইআরে বাদ যাওয়া ভোটার সংখ্যার চেয়ে দুই প্রার্থীর জয়ের মার্জিন কম, সেগুলি নিয়ে আলাদা মামলা করুন। সোমবার তৃণমূলকে এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এখনও যাদের নাম বিবেচনাধীনে রয়েছে, তাদের বিষয়টি শেষ হতে কত সময় লাগবে তা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে সুপ্রিম কোর্ট খবর নেবে বলেও এদিন জানিয়ে দিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় এনআইএ’কে আগামী দু’ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হল। জুডিসিয়াল অফিসারদের এখনও পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে কিনা, তা রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। 

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) মামলার শুনানির সময় গত ১৩ এপ্রিল বিচারপতি বাগচী তাঁর পর্যবেক্ষেণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, যদি কোনো কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর জয়ের মার্জিন ২ শতাংশের কম হয় এবং সেই কেন্দ্রে ১৫ শতাংশ ভোটার বিবেচনাধীনের তালিকায় পড়ে ভোট দিতে পারল না, তখন বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। ঘটনাচক্রে, রাজ্যের ৩১টি কেন্দ্রে কার্যত এমনটাই ঘটেছে বলেই তৃণমূলের আ‌ইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি। 
এদিন সুযোগ পেয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে তালিকা রয়েছে। যেখানে জয়ের মার্জিনের অঙ্কের চেয়ে এসআইআরে নাম বাদের সংখ্যা বেশি। যেমন, একটি কেন্দ্রে তৃণমূল হেরেছে ৮৬২ ভোটে। সেখানে এসআইআরে বাদ গিয়েছে ৫ হাজার ৪৩২ জন ভোটার। তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির জয়ের অঙ্কের ফারাক ৩২ লক্ষ ভোটারের (৩২ লক্ষ ১১ হাজার ৪২৭)। অথচ অ্যাডজুডিকেশন বা বিবেচনাধীনে এখনো আবেদনের নিষ্পত্তি বাকি ৩৫ লক্ষের। তাহলে? এই জয়কে কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত বলা যায়? পাশে ছিলেন দলের আর এক আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী। 
যা শুনে নির্বাচন কমিশনের আ‌ইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, এসব তো ইলেকশন পিটিশন বা নির্বাচনি আবেদনের বিষয়। এসআইআর মামলার সঙ্গে কেন উল্লেখ করা হচ্ছে? যদিও তূণমূলের দাবি, এটি এসআইআরেরই বিষয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তখন জানিয়ে দেন, ‘আপনারা আলাদা আইএ (ইন্টারলকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন) করুন। আমরা দেখব।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ট্রাইবুনালে বহু ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ এখনো হয়নি। অথচ ট্রাইবুনাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম পদত্যাগ করেছেন। তাহলে কী করে নিষ্পত্তি হবে? সওয়াল শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর মন্তব্য, কেন পদত্যাগ করেছেন কী করে বলব? তাছাড়া কাউকে তো জোর করতে পারি না। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চাইব। কী মেকানিজম বের করা যায় দেখব। আগামী ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ