সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই জঙ্গলমহলে রেশন-রাজনীতি শুরু করে দিল তৃণমূল ও বিজেপি।
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই জঙ্গলমহলে রেশন-রাজনীতি শুরু করে দিল তৃণমূল ও বিজেপি।
বিনামূল্যে রেশনের চাল-আটা পেয়ে ঝাড়গ্রাম জেলায় অন্নের অভাব ঘুচেছে গরিব মানুষের। সেই সঙ্গে চলছে ‘দুয়ারে রেশন’। তাতে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে রেশন সামগ্রী। সরকারি তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ মানুষ রেশন থেকে বিনামূল্যে চাল ও আটা পাচ্ছেন। এঁরা ভোটের বড় নিয়ন্ত্রক শক্তি। তাই, রেশন ব্যবস্থায় কৃতিত্ব দাবি করে ভোট-ময়দানে ঝাঁপিয়েছে যুযুধান দু’ পক্ষই। লড়াই শুরু হয়েছে উপভোক্তাদের নিজেদের অনুকূলে টানার।
তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গী বলেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রেশনে চাল, আটা বন্ধ করে দিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার পক্ষে। আগে রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তির নিদান দিয়েছিল। এবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যোগ করার ফরমান জারি করতে চলেছে। ভোট আসলেই ওরা মনগড়া নানা ফিরিস্তি ঘোষণা করে। জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে বিজেপি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য অবনী ঘোষের পাল্টা যুক্তি, ‘কেন্দ্রের মোদি সরকার সারা দেশের গরিব মানুষকে বিনামূল্যে রেশনে খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছে। এ রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রের দেওয়া রেশনে চাল, আটা বিনামূল্যে পাচ্ছেন। জঙ্গলমহলের মানুষের জন্য রেশনে যে আলাদা প্যাকেজ রয়েছে, তাতেও কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। আবাস যোজনা, রাস্তা নির্মাণ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে রাজ্য তাদের বলে চালাচ্ছে। রেশন ব্যবস্থায় কেন্দ্রের সাফল্য আমরা ভোট প্রচারে তুলে ধরব।’
জেলা খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামে মোট রেশন উপভোক্তা সংখ্যা ১১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে এএওয়াই-৩ লক্ষ ১ হাজার ৫৬১, পিএইচএইচ- ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৯৮২, এসপিএইচএইচ-৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৬১৮, আরকেএসওয়াই ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৫৪ ও আরকেএসওয়াই ২৩ হাজার ১৯৫ জন। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তি বাকি রয়েছে ২০ হাজার ৪৩ জনের। জেলায় অশীতিপর রেশন উপভোক্তার সংখ্যা মাত্র ৪৭ জন।
এই নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ামক আধিকারিক সুজয় দাস বলেন, ‘এখন সমস্ত ক্যাটিগরির উপভোক্তরাই রেশন থেকে বিনামূল্যে চাল ও আটা পেয়ে থাকেন। এএওয়াই, পিএইচএইচ, এসপিএইচএইচ এগুলি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আরকেএসওয়াই -১ ও আরকেএসওয়াই ২ প্রকল্প রয়েছে। রেশনে খাদ্য সামগ্রীর বদলে অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান নিয়ে আমাদের কাছে কোনও নির্দেশিকা বা বার্তা আসেনি। এখানকার মানুষ খাদ্য সামগ্রীই চান। প্রত্যন্ত এলাকায় এর আগে রেশন দোকানে গিয়ে মাল তোলাটাই ছিল অনেকের কাছে দুর্বিষহ। এখন দুয়ারে রেশন ব্যবস্থা চালুর ফলে মানুষ বাড়িতে বসেই বিনামূল্যে চাল ও আটা পাচ্ছেন।’