নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মসূচি ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। পুলিসের সামনেই দু’পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিস দু’পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনে। বিজেপি কর্মীরা বরানগর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তবে প্রায় একই সময়ে ও একই রাস্তায় দুটি কর্মসূচির অনুমতি পুলিস কীভাবে দিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বারুইপুরে বিজেপি ও তৃণমূলের মুখোমুখি বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো একই পরিস্থিতি এদিন বরানগরে তৈরি হয়। বিজেপির উত্তর কলকাতা শহর জেলা কমিটি ন’পাড়া বঙ্গলক্ষ্মী বাজার মোড় থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল। ওই মিছিল এ কে মুখার্জি রোড ধরে টবিন রোড মোড় হয়ে বরানগর থানার সামনে এসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো বিকেলে মিছিল শুরু হয়। পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের তরফে ১০৪ এ কে মুখার্জি রোডের পার্টি অফিস থেকে মিছিল শুরু করা হয়। বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের গেট আটকে তৃণমূলের কয়েকশো কর্মী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের আটকে রাখে পুলিস। সেখান দিয়ে বিজেপির মিছিল যাওয়ার সময় স্লোাগান ও পাল্টা স্লোগানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এক বিজেপি কর্মীকে মিছিল থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও পুলিস দ্রুত ওই বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বরানগর ২ মণ্ডলের এক মহিলা বিজেপি নেত্রীর বাড়িতে গতকাল রাতে হামলা চালায় শাসক দলের কর্মীরা। হামলার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও রয়েছে। কয়েক দিন আগে আইনজীবীর উপর হামলা চালানো হয়েছিল।
মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, হাসপাতালের গেট আটকে তৃণমূল জমায়েত করল কীভাবে? কেন পুলিস সেই অনুমতি দিল। সেখানে আবার মাইক বাজানো হল কি করে? আমাদের কর্মীদের উপর হামলা হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। সব হিসেব সুদে আসলে মেটানো হবে। বরানগর পুরসভার সিআইসি অঞ্জন পাল বলেন, বরানগর শহর (দক্ষিণ) তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ বর্ধন সহ দলীয় নেতা ও কর্মীরা ভোটার তালিকায় কারচুপির প্রতিবাদে মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছিল। বিজেপির মিছিল থেকে প্ররোচনা আসায় সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। আমাদের এক কর্মীকে ওরা মারধর করেছে।