নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা বারুইপুর: বারুইপুর রাসমাঠ থেকে রেলগেট পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল বিজেপির। তারপর এসডিও অফিসের বাইরে একটি সভা হবে বলেও জানা গিয়েছিল। সেই মতো বুধবার সকালে মঞ্চ বাঁধা হয়। আয়োজনে কোনও খামতি ছিল না। ভিড় জমাট করতে অন্যান্য জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের আনা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল, বারুইপুরে এসেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন না করেই ফিরে গেলেন বিজেপি বিধায়করা। আচমকা এমন সিদ্ধান্তে হতাশ বিজেপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। মুখ চুন করে গজগজ করতে করতে ফিরলেন অনেকে। কেউ কেউ ক্ষোভের সঙ্গে বলে গেলেন, ‘সকাল থেকে কাজকর্ম ছেড়ে এসেছিলাম। কিন্তু মিছিলই তো হল না!’ কেন বাতিল হল কর্মসূচি? নিরাপত্তার দোহাই দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। দলের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোতদার বলেন, ‘প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে। আমাদের দলের কাউকে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। এদিন বিজেপির মিছিলের পাল্টা অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। ঋষি বঙ্কিম নগর এবং পুরাতন বাজারের কাছে মঞ্চ বেঁধে অপেক্ষা করছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপি বিধায়করা এলেই তাঁদের কালো পতাকা দেখানো হবে বলে ঠিক করেছিলেন তাঁরা। বিকেলে যখন একে-একে বিধায়কদের গাড়ি ঢুকছিল, তখন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ও কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বিজেপির অভিযোগ, তাদের বিধায়কদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির লোকজন ছিল না। ওদের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। কাউকে ধাক্কা দেওয়ার কোনও ছবি নেই। তৃণমূলের কর্মসূচির দায়িত্বে ছিলেন জেলার মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ জয়ন্ত ভদ্র এবং বারুইপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাস। তাঁরা বলেন, ‘লোকজন হয়নি বলেই মিছিল বাতিল করেছে বিজেপি। কোনও গাড়িতেই কেউ হামলা করেনি। বাজার গরম করতে বিজেপি এসব বলছে।’



