ডানকুনির মাঠে তিরুপতির বালাজি মন্দির, চুঁচুড়ায় ইলোরার রহস্যে ঘেরা কৈলাস গুহা
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: থিমপুজো শুরুর জমানায় পুরানো কোনো স্থাপত্যকে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরার প্রচলন ছিল। সময় যত এগিয়েছে, ততই কঠিন ও বড়ো আকারের মন্দির, জটিল গুহাচিত্র থিমের ময়দানে জায়গা করে নিয়েছে। পুজো মরশুমে ভাববহুল থিমের পাশাপাশি সেসবও ঘুরে ফিরে আসে। ফলে, চেনা-অচেনা নানা স্থাপত্য দর্শনের সুযোগ বাঙালির মহোৎসবে যেন দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে। ২০২৬ সালের পুজো মরশুমেও হুগলির চুঁচুড়া থেকে ডানকুনি, নানা স্থাপত্য পুজো মণ্ডপে মাথা তুলেছে। আয়োজনের মুন্সিয়ানায় বাঁশ-কাঠ-লোহার কাঠামো আর ফাইবারের সেসব স্থাপত্যই চমক জাগাবে।

Advertisement

হুগলির ডানকুনি স্পোর্টিংয়ের এবারের আয়োজন তিরুপতির বালাজি মন্দির। শ্বেতশুভ্র নয়নাভিরাম বিরাট আয়তনের মন্দিরের কাঠামো ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। বালাজি মন্দিরের আকার-আয়তন, মন্দিরের শরীরজুড়ে থাকা সূক্ষ্ম কারুকাজ— যতটা সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। সঙ্গে থাকছে আলোর বিশেষ আয়োজন। দু’য়ের মিলিত প্রয়াসে চমক জাগবেই, এমনটাই দাবি আয়োজকদের। জানা গিয়েছে, তিরুপতি মন্দিরের কাঠামোটি প্রায় ৮৬ ফুট লম্বা ও ৯৫ ফুট চওড়া। তুষারধবল সেই মন্দিরের গায়ে থাকবে মনোহর অলঙ্করণ। দেবী প্রতিমা এখানে মৃন্ময়ী। সাবেক ধাঁচার প্রতিমা, শোলার সাজে মনোহর রূপ গড়ে তোলা হচ্ছে। ডানকুনি স্পোর্টিংয়ের মাঠে বিরাট জায়গা আছে। ফলে, আলোর বিপুল সমাবেশ রাখা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মন্দিরের বাহির ও অন্দরসজ্জাকে দৃশ্যমান করতে বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আড়ে-বহরে-আয়োজনে ডানকুনি তো বটেই, জেলার অন্যতম সাড়া জাগানো পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
ডানকুনি যদি ভগবান বিষ্ণুর মন্দির দিয়ে দর্শকদের চোখ ধাঁধাতে চেয়ে থাকে তবে চুঁচুড়ার ভরসা, ত্রিলোচন শিব। তবে বিষ্ণু বা কৃষ্ণ যোগ এখানেও আছে। চুঁচুড়ার বেগুনতলা সর্বজনীনের এবারের আয়োজন মহারাষ্ট্রের ইলোরার কৈলাস মন্দির। একটি মাত্র পাথর কেটে তৈরি ওই স্থাপত্য ভারতের অন্যতম বৃহত্তম মন্দির হিসাবে পরিচিত। মূল শিল্পরীতিতে দ্রাবিড় সভ্যতার শিল্পকলার ছাপ দেখা যায়। ঐতিহাসিকদের দাবি, অষ্টম শতাব্দীতে রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম কৃষ্ণের রাজত্বকালে পাথরের বুক চিরে বহু গুহাবিশিষ্ট ওই শিবমন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। যার ১৬ নম্বর গুহাটি মূলত  কৈলাস মন্দির নামে পরিচিত। বেগুনতলার মাঠে এবার সেই বিচিত্র স্থাপত্যকেই তুলে ধরা হচ্ছে। রজতজয়ন্তী বর্ষের পুজো বলে এবারের আয়োজনে বাড়তি মাত্রা জুড়তে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। মন্দির শিবের হলেও থিম সংস্কৃতির হাত ধরে চুঁচুড়ার কৈলাস মন্দিরে সপরিবারে আর্বিভূতা হবেন উমা। দেবীপ্রতিমার অবয়ব হবে পাথুরে। অর্থাৎ পাথরগাত্রে উৎকীর্ণ প্রতিমার আদলে থাকবে তাঁর সজ্জা। গুহা ও পাথুরে আদলের স্থাপত্য বলে আলোর বিশেষ আয়োজন থাকবে। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়, গুহাকেন্দ্রিক আরও একটি সনাতন ধারা থিমপুজোর সঙ্গে জুড়ছে। পুজো উদ্যোক্তা কৌশিক দে বলেন, গুহামন্দিরে থাকবে রুদ্রনৃত্যের আয়োজন। অঘোরীদের শিবতাণ্ডবের আদলে মণ্ডপে প্রতিদিন নাচ হবে। সেটাই গুহামন্দিরের আবহকে বাড়তি মাত্রা দেবে।
বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই দামোদর শেঠের কবিতা। সে অল্পেতে খুশি নয়। তাই চর্চিত স্থাপত্যকে অনুকরণ করে একদিকে চমক, অন্যদিকে স্থায়ী ছাপ রাখতে চেষ্টার ত্রুটি নেই হুগলির গঙ্গাপাড়ে।