নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে জলজীবন মিশনের অধীনে ২০০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় অনুদান এল রাজ্যে। চলতি সপ্তাহে এই অর্থ এসেছে বসে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর সূত্রে খবর। গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের এই প্রকল্প ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত বিরোধ ছিল তৃণমূলশাসিত রাজ্য সরকারের। এই প্রকল্পের অন্যতম শর্ত ছিল, জলকর নিতে হবে। তবে, তাতে রাজি ছিলেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই সেই শর্ত মেনে চুক্তিতে সই করেছে। এর ফলেই দীর্ঘ কয়েক বছর আটকে থাকা অর্থ আসতে শুরু করেছে। এর ফলে, ২০২৩-২৪ সাল থেকে বকেয়া টাকা পুজোর মুখে পেতে চলেছেন ঠিকাদাররা।কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া যাবতীয় প্রকল্পের অংশবিশেষ হিসাবেই এই টাকা আপাতত এসেছে। আপাতত প্রায় ১৩৬৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি বিভাগের অধীন জেলার ডিভিশনগুলি বকেয়া অর্থের ৬০ শতাংশ করে পাবে। ইতিমধ্যেই সেই বাবদ প্রায় ১০০০ কোটি টাকা ছাড়ার হয়ে গিয়েছে বলে খবর। সবচেয়ে বেশি বকেয়া ছিল বীরভূম এবং মেদিনীপুর জেলার ডিভিশনগুলিতে। দু’টি জেলা মিলিয়ে এই বকেয়ার পরিমাণ কমবেশি ২৫০ কোটি টাকা বলে জানা যাচ্ছে। দ্রুতই আরও ১৫০০ থেকে ১৬০০ কোটি টাকা আসার কথা। এর ফলে বাকি টাকাও ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সূত্রের খবর। বকেয়া মিটে গেলে নতুন কাজেও গতি আসবে বলে আধিকারিকরা আশাবাদী। তবে, অন্য একটি সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। পুরনো কাজে বেশকিছু ভুলভ্রান্তি হওয়ায় সেগুলির টাকা মেটানো হয়নি ঠিকাদারদের। নতুন করে কাজ করার ফলে ব্যয়ও বেড়েছে। তবে, এই ‘রেট্রো ফিটমেন্ট’-এর জন্য খরচ হওয়া বাড়তি টাকা কেন্দ্র দিতে চাইছে না। সেই টাকার পরিমাণও অনেকটাই বেশি বলে জানা যাচ্ছে। বিভাগীয় সচিব, আধিকারিকরা কেন্দ্রের কাছে দরবার করে সেই টাকা আনতেও দরবার চালাচ্ছেন বলে খবর।



