Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়ল সময়, প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট আবশ্যিকই

প্রাথমিকে শিক্ষক পদে থাকতে হলে টেট (টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট) আবশ্যিক। শুক্রবার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ, শিক্ষার অধিকার আইন লাগু হওয়ার আগেও যাঁরা স্কুলে প্রথম-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী পড়ানোর জন্য নিযুক্ত, তাঁদের টেট পাশ করতেই হবে।

বাড়ল সময়, প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট আবশ্যিকই
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রাথমিকে শিক্ষক পদে থাকতে হলে টেট (টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট) আবশ্যিক। শুক্রবার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ, শিক্ষার অধিকার আইন লাগু হওয়ার আগেও যাঁরা স্কুলে প্রথম-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী পড়ানোর জন্য নিযুক্ত, তাঁদের টেট পাশ করতেই হবে। আগের সিদ্ধান্ত বজায় রেখে শুক্রবার ‘রিভিউ পিটিশনে’র রায়ে আবারও সেকথা জানিয়ে দিল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ। তবে সেই কাজের জন্য সময়সীমা এদিন আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছে শীর্ষ আদালত। আগামী ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে বর্তমানে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের। এই রায়ে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা। গোটা দেশে এই সুপ্রিম রায়ের প্রভাব পড়বে প্রায় ৩০ লক্ষ শিক্ষকের উপর।

Advertisement

১৭ পাতার রায়ে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি সময় চাকরি রয়েছে, এমন কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট পাশ করতেই হবে। এটিই ন্যূনতম যোগ্যতা। টেটে পাশ করতে না পারলে চাকরি খোয়াতে হবে। এছাড়া চাকরি যতদিনই বাকি থাকুক না কেন, কর্মরত কোনো শিক্ষক পদোন্নতি চাইলে তাঁকেও পাশ করতে হবে টেট। শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন শীর্ষ আদালতের দু‌ই ঩বিচারপতি।
যদিও ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া শিক্ষার অধিকার আইন এবং ২০১৭ সালের সংশোধিত আইনের কথা উল্লেখ করে টেটহীন  কর্মরত শিক্ষকদের জন্য সামান্য সুযোগ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রায়ে যাকে ‘দ্য রিলিফ’ বা ‘স্বস্তি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘কমপ্লিট জাস্টিসে’র উদ্দেশ্যে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ আশ্রয় করেই এই স্বস্তির ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। সেটি হল— ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১১০ পাতার রায়ে একই বিচারপতিদ্বয়ের বেঞ্চ জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে টেটহীন শিক্ষকদের পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। শুক্রবার রিভিউ পিটিশনের রায়ে তা সামান্য বদলে দেওয়া হল। বাড়ানো হল সময়। বলা হয়েছে, কর্মরত টেট পাশহীন শিক্ষকদের আগামী ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে পাশ করতেই হবে। রাজ্যকে বছরে দু’বার টেট নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া রয়েছে।
অঞ্জুমান ইশাদ-ই-তালিম ট্রাস্ট বনাম মহারাষ্ট্র সরকার নামে ছিল মূল মামলাটি। সেই মামলায় রায়দানের পর রিভিউ পিটিশন করে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকার। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এদিন রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রাজ্যের শিক্ষকদের কথা ভেবে মামলায় বিবাদী হয়েছিল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেইনড টিচারস অ্যাসোসিয়েশন (ওল্ড)’। এই সংগঠনের সদস্যদের অধিকাংশ ২০১০ সালের শিক্ষার অধিকার আ‌ইন আসার আগে নিযুক্ত। সেই সময়ের যাবতীয় নিয়ম (পিটিটিআই, দু’ বছরের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন কোর্স, উচ্চ মাধ্যমিকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর) মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংগঠনের সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘আইন যখন আসেইনি, তখন যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের উপর কোন যুক্তিতে নতুন আইন কার্যকর হয়? তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিছু একটা মধ্যপন্থা নেওয়া হবে। সেই মতো কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স এনে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত টেটহীন লক্ষাধিক শিক্ষকদের স্বস্তির পক্ষে সওয়াল করতেই পারত। কিন্তু তা করা হল না কেন, সেটাই প্রশ্ন!’

সম্পর্কিত সংবাদ