নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রামনবমী উপলক্ষ্যে প্রশাসনিক মহলে সাজ সাজ রব। শনিবার নবান্নে পুলিসের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে রামনবমী নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। নবান্নে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন কলকাতার পুলিস কমিশনারের মনোজ ভার্মা। তিনি জানিয়েছেন, রামনবমীর মিছিলের জন্য ৮০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ড্রোনে নজরদারি চালানো হবে।
বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র মিছিলের অনুমতি দেয়নি বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট। ভাটপাড়া, জগদ্দল নিয়ে সতর্ক পুলিস। জনবহুল স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। রামনবমীর মিছিল ঘিরে যাতে কোনও গোলমাল না হয়, সতর্ক বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট। এদিকে, শনিবার বিকেলে বরানগরে রামনবমীর মিছিলে পা মেলান সাংসদ সৌগত রায় ও বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাওড়া শহরে ২১টি শোভাযাত্রা বের হচ্ছে। তবে বিগত বছরের কথা মাথায় রেখে জিটি রোডের চওড়া বস্তি, পিএম বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি নজরদারি থাকছে পুলিসের। তিন হাজার পুলিস মোতায়েন থাকবে। একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসও। উলুবেড়িয়া থেকে শ্যামপুর, আমতা থেকে বাগনান, উদয়নারায়ণপুর, বাউড়িয়ায় সাজ সাজ রব। শোভাযাত্রা যে পথ দিয়ে যাবে সেই পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকছে। গুজব আটকাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখা হচ্ছে। গতবারের তুলনায় চারগুণ বেশি পুলিস মোতায়েন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে রামনবমী উৎসবের সূচনা করেন মন্ত্রী পুলক রায়।
হুগলি গ্রামীণ পুলিস সুপার কামনাশিস সেন নিজে শনিবার সিঙ্গুর, চণ্ডীতলা সহ একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। চন্দননগর কমিশনারেটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন পুলিস কমিশনার অমিত পি জাভালগি। চন্দননগর কমিশনারেট এলাকায় শোভাযাত্রায় নজর রাখতে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিপুল সংখ্যায় অতিরিক্ত বাহিনীও নামানো হচ্ছে। ডানকুনিতে দলীয় কর্মসূচিতে এসে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপি উত্তেজনা ছড়ানোর প্ল্যান করছে।
এদিকে, শনিবারও হুগলির চুঁচুড়াতে রাজনৈতিক বিরোধের ইঙ্গিত মিলেছে। শহরের ঘড়িমোড়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসও একটি জমায়েত করার পরিকল্পনা করেছে। তা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন ও পুলিস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, রামনবমী পর্ব নির্বিঘ্নে পার করতে সমস্ত রকম পদক্ষেপ করা হবে।
ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলায় ৪৯টি জায়গাতে রাম নবমীর মিছিল হবে। এছাড়াও ৭৪টি জায়গায় রাম ঠাকুরের পুজো হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহেশতলা থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান পুলিস সুপার রাহুল গোস্বামী। তিনি বলেন, পুরনো রুটে বরাবর যারা রাম নবমীর মিছিল হয়ে আসছেন, তাঁদের সকলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নতুন রুটে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।