নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘রণথম্ভোর, বান্ধবগড়, তাডোবার মতো দেশের নামকরা টাইগার সাফারি পার্কগুলিতে গিয়েছি। সাফারির সময় একটি হলেও বাঘ দেখতে পেয়েছি। কিন্তু সুন্দরবনে অনেকবার ঘুরতে গিয়েও বাঘ দেখতে পাইনি। কিন্তু কিছুদিন আগে বোটে করে যাওয়ার পথে গাইড হঠাৎ আমাদের দেখালেন, একটু দূরে নদী পেরচ্ছে বাঘ। প্রথমবার সুন্দরবনে দেখলাম, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এ জীবনে ভুলব না,’ বললেন কলকাতার উমা বন্দ্যোপাধ্যায়। উমাদেবীর মতোই বাঁকুড়া থেকে গিয়েছিলেন কয়েকজন। তাঁদেরও একই কথা। জানালেন, তিনবার এসেছিলেন। একবারও বাঘের দেখা পাননি। এবার চাক্ষুষ করলেন সুন্দরবনের রাজাকে।
লোকে বলে, সুন্দরবনে বাঘ দেখতে পাওয়া অনেকটা লটারি পাওয়ার মতো। জঙ্গলে এসে ঘুরে মুখ ভার করে ফিরে গিয়েছেন বহু পর্যটক। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। ইদানীং সুন্দরবনের জঙ্গলে, নদীতে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখা প্রায়শই মিলছে। পরিসংখ্যানও সে বিষয়টিকেই সমর্থন করছে। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের বার্ষিক রিপোর্টে প্রকাশ, ২০২৫-’২৬ সালে ১২৮ বার দেখা গিয়েছে বাঘ। পায়ের ছাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে, সাতশোরও বেশি। মূলত শীতকালে বাঘ দর্শন বেশি হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, গত দু’বছরে শতাধিকবার সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় বাঘ দেখতে পেয়েছেন পর্যটকরা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সব থেকে বেশি সংখ্যক বাঘের দেখা মিলেছে। কখনও জঙ্গলের ধারে শাবকদের নিয়ে পায়চারি করতে দেখা গিয়েছে। কখনও সাঁতরে নদী পেরচ্ছিল। জঙ্গলে যে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত টাইগার রিজার্ভের কর্তারা। গত কয়েক বছরে মাঝেমধ্যেই পর্যটকদের ক্যামেরায় ছবি উঠছে বাঘের। সবমিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ গণনার রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, সুন্দরবনে ১০১টি বাঘ আছে। বর্তমান ট্রেন্ড দেখে বন আধিকারিকদের অভিমত, এই সংখ্যা কমকরে ১১০ হবে। কিন্তু এখনও কেন্দ্র থেকে সরকারিভাবে বাঘ শুমারির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। তাই সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছেন না আধিকারিকরা।
বাঘ শুধু নয়, কুমির, হরিণ, ভোঁদড়, জংলি শুকর সহ আরও অনেক প্রাণীর দেখা মিলছে জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে। অন্যদিকে শেষ তিনবছরের মধ্যে ২০২৫-’২৬ সালে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছিলেন সুন্দরবনে। তাঁদের অনেকেই বলছেন, বাঘ দেখার হার বেড়েছে। সে খবর সোশ্যাল মিডিয়া মারফত ছড়িয়ে পড়ছে। সেই টানে দেশ শুধু নয়, বিদেশ থেকেও প্রচুর পর্যটক আসছে শ্বাপদসংকুল এই বদ্বীপে। কম দিনের ছুটিতে জল-জঙ্গলের মধ্যে এক রোমহর্ষক ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা হল সুন্দরবন। দেশের আর কোথাও এমন ওয়াটার সাফারির অনুভূতি মেলে না। বোটে ঘুরতে ঘুরতে খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে বাঘ ও বন্যজন্তু দেখার মজাই আলাদা। সেই টানেই মানুষ ছোটেন এই বাদাবনে।