


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গত ২১ জুলাই থেকে খড়দহের শ্যামসুন্দর ফেরিঘাটের টিকিট কাউন্টার বন্ধ। সেখানকার কর্মীদের রিষড়ার ঘাটে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে। এমনকী, গঙ্গায় ভাটার কথা বলে দৈনিক সাত থেকে আট ঘন্টা ফেরি বন্ধ রেখে পাশের টিটাগড় পুরসভা এলাকায় তৈরি নতুন ফেরিঘাটে লঞ্চ পাঠানো হচ্ছে। এই অবস্থায় শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হলেন ফেরিঘাটের কর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। কিছুক্ষণ বি টি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ফেরিঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিষড়া পুরসভা। তাঁদের দাবি, কোনওভাবে ঐতিহ্যবাহী ফেরি বন্ধ করা হবে না। টিকিটের টাকা সংগ্রহে যাওয়া কর্মীদের মারধর করা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। নতুন করে টিকিট কাউন্টার দ্রুত চালু করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়দহের ঐতিহ্যবাহী শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট দিয়ে রিষড়া ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এই দুই ঘাট বহু বছর ধরে রিষড়া পুরসভার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু গঙ্গায় চড়া পড়ার ফলে সমস্যা তৈরি হয়। ভাটার সময় নৌকা চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ২০১৬ সালে গঙ্গার আরও গভীরে পল্টন জেটি করা হলেও খুব একটা লাভ হয়নি। কয়েক বছর আগে ওই ফেরিঘাটের অদূরে টিটাগড় পুরসভা এলাকায় নতুন ফেরিঘাট তৈরি হয়েছে। ভাটার সময় সেখান দিয়েই ফেরি চালানো হচ্ছে। কিন্তু ওই জায়গায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনার অভিযোগ তুলে যাত্রীদের একাংশ যাতায়াত করতে চাইছেন না। শুধু তাই নয়, এর ফলে শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট লাগোয়া এলাকার দোকানদার, টোটো ও অটোচালকরা কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন। এই পরিস্থিতিতে গত ২১ তারিখ থেকে খড়দহের শ্যামসুন্দর ফেরিঘাটের টিকিট কাউন্টারই বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মীদের রিষড়ায় গিয়ে কাজের কথাও বলা হচ্ছে। তাই স্থানীয় দোকানদারদের পাশাপাশি ফেরিঘাটের কর্মীরাও ফেরিঘাট বন্ধের চক্রান্তের অভিযোগে সোচ্চার হন। বিক্ষোভকারী সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভাটার কথা বলে প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘন্টা ফেরিঘাট বন্ধ রাখা হচ্ছে। আসলে ঐতিহ্যবাহী শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে।’
তবে রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র বলেন, ‘টিকিট বিক্রির টাকা আনতে যাওয়া কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা দ্রুত ওই ফেরিঘাটে টিকিট কাউন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাটার সময় শ্যামসুন্দর ঘাটে নৌকা বন্ধ থাকলে তখনই নতুন ফেরিঘাট দিয়ে লঞ্চ চালানো হচ্ছে। ফেরিঘাট বন্ধ নয়, বরং প্রয়োজনে লঞ্চ বাড়িয়ে দু’টি ঘাটই আমরা চালাতে চাই।’ খড়দহ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সায়ন মজুমদার বলেন, ‘রিষড়া পুরসভা আমাদের অন্ধকারে রেখে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে ফেরিঘাটের সাধারণ কর্মী ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি সর্বস্তরে জানিয়েছি।’