নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে। রেজিস্ট্রি চিঠি সহ বায়োডেটা আসছে ই এম বাইপাসের মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনের ঠিকানায়। অনেক আবার সরাসরি তৃণমূল ভবনে এসে ড্রপ বক্সের খোঁজ করছেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। মনে করা হচ্ছে, মার্চ মাসের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। তাই নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বর্তমানে যাঁরা তৃণমূল বিধায়ক আছেন, তাঁরা সবাই টিকিট পাবেন কি না, সেটা নিয়েও চর্চা চলছে। নতুন করে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। এই আবহে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ছে রাজ্যের শাসক দলের প্রধান কার্যালয়ে। অনেকেই সশরীরে হাজির হয়ে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন। বায়োডেটা জমা দিতে চাইছেন। তবে তৃণমূল ভবনে এখনও ড্রপ বক্স চালু হয়নি। তাই টিকিট প্রত্যাশী নেতাদের বলা হচ্ছে, ‘আপনারা যোগাযোগে থাকুন। নির্দিষ্ট সময়ে ড্রপ বক্স চালু হলে সেখানে বায়োডেটা জমা করতে পারবেন।’ দলীয় সূত্রে আরও খবর, বিধানসভা ভোটে টিকিট নিশ্চিত করতে অনেকে তৃণমূলের একাধিক নেতার কাছেও বায়োডেটা পাঠাচ্ছেন। সেই বায়োডেটা ওই নেতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। রেজিস্ট্রি চিঠি মারফৎ তৃণমূল ভবনের ঠিকানায় যাঁরা বায়োডেটা পাঠাচ্ছেন, তৃণমূল ভবনের অফিস-স্টাফ সেগুলি ‘রিসিভ’ করছেন। পরে ওই চিঠি তাঁরা পাঠিয়ে দিচ্ছেন রাজ্য নেতৃত্বের কাছে।
তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক নেতার কথায়, ‘টিকিট প্রত্যাশীদের বায়োডেটা পাঠানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে তাঁদের মধ্যে কারা টিকিট পাবেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বই সেই সিদ্ধান্ত নেবে।’ তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পারফরম্যান্স বা যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করা হবে। এখন যাঁরা বিধায়ক আছেন, তাঁরা গত পাঁচ বছর কেমন কাজ করেছেন, তৃণমূল নেতৃত্ব সেটা পর্যালোচনা করে দেখছে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের তরফেও একটি রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। তাছাড়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব সূত্রে বিধায়কদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে সবদিক বিবেচনা করেই টিকিট দেওয়া হবে। নতুন মুখদের বিষয়েও খোঁজখবর শুরু করেছে তৃণমূল।