নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আপাতত রাজ্যজুড়েই চলবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি। তবে আগামী শুক্র ও শনিবার (২০-২১ মার্চ ) দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বেশি মাত্রায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। এজন্য জারি করা হয়েছে ‘কমলা’ সতর্কতা। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। সেখানে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং কিছু স্থানে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। ওই দুদিন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার কিছু এলাকার জন্য ঝড়বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ভারী বৃষ্টি হতে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্পের প্রবেশ এবং অন্যান্য অনুকূল পরিস্থিতি সৌজন্যে ওইসময় ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে। বজ্রপাত থেকে ফসল ও অন্যান্য ক্ষতির ব্যাপারে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হলেও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়নি। কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে শুধু আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে। দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার কিছু জায়গায় দুপুর নাগাদ বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার দুপুরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বেশি ছিল। দক্ষিণবঙ্গে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে হাওড়ার আমতায়—৪০ মিমি। কলকাতার আলিপুরে ঘণ্টায় ৭২ কিমি গতিবেগে কালবৈশাখীর ঝড় হয়। সেখানে ১৭.৬ মিমি বৃষ্টিও হয়েছে। আরো অনেকগুলি জেলায় জোরালো ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাতের বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়। মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। এটা স্বাভাবিকের থেকে ৫.২ ডিগ্রি কম। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩০.৬ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৬ ডিগ্রি কম ছিল। বর্ধমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭ ডিগ্রি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গরম থেকে এই স্বস্তি সাময়িক। তাপমাত্রা ফের বাড়বে চড়া রোদ উঠলেই।