সংবাদদাতা, তেহট্ট : দুশো বছরের বেশি সময় ধরে তেহট্ট থানার পাথরঘাটা এলাকায় চাচা ফকিরের মেলা চলছে। ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তের এই গ্রামে আগে দুই বাংলার সব ধর্মের মানুষ এই মেলায় অংশ গ্রহণ করতো। এখন কাঁটাতার হয়ে যাওয়ায় দুই বাংলার মিলন বন্ধ হয়েছে। তবু এপার বাংলার সঙ্গে মিল রেখে ওপার বাংলাতেও একই দিনে চাচা ফকিরের অনুষ্ঠান হয়। দুই বাংলার মানুষ এক সঙ্গে হতে পারে না বলে দুই পারের মানুষের মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায় এই তিনদিন।
Advertisement
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, দুশো বছর আগে সীমান্তে বাস করতেন চাচা ফকির। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর নামে বিভিন্ন অলৌকিক কথা শোনা যায়। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চাচা ফকিরের দরগায় কেউ যদি কোনও মানত করেন তা ফলবেই। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের দু তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত এই মেলা চলে। প্রথম দিন সাধুসন্ত, ফকিররা এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি দু’দিন এলাকার সব ধর্মের মানুষ এই মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। মেলা কমিটির সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মণ্ডল বলেন, চাচা ফকির সম্পর্কে অনেক অলৌকিক কথা শোনা যায়। পলাশীপাড়া থানার বার্নিয়া এলাকার এক গৃহবধূর আট বছরের ছেলে কথা বলতে পারতো না। তিনি চাচা ফকিরের কাছে মানত করার পর কথা বের হয়। তিনি দুটো খাসি দিয়েছেন। এইরকম ভাবে কেউ দুধ, কেউ মুরগি আবার কেউ ফল দিয়ে যান তাঁদের মনস্কামনা পূরণ হলে। এই মেলায় সব ধর্মের মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।



