


সদ্য মুক্তি পেয়েছে অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘কর্পূর’। সে ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ব্রাত্য বসু।
রাখহরি গোস্বামীকে কত বছর ধরে মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন?
(হাসি) শুধু শ্যুটিং-এর দিনগুলোতেই আমি রাখহরি হয়ে উঠেছিলাম। চিত্রনাট্য পড়ে এই চরিত্রটাই আমি বেছে নিয়ে ছিলাম। মনে হয়েছিল, এই চরিত্রটার মধ্যে নতুন কিছু অভিনয়ের সুযোগ আছে।
বাম আমলের ওই সত্য ঘটনা নিয়ে নিশ্চয় তখন থেকেই মনে মনে অন্তর্তদন্ত চালাচ্ছিলেন। যে অনুসন্ধান আজও শেষ হয়নি...
(হাসি) তখন সদ্য আমি কলেজে পড়াতে শুরু করেছি। থিয়েটার করছি। রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে। রাজনৈতিক খবরগুলো খুব একটা পড়তামও না। কিন্তু মনীষা অন্তর্ধান রহস্য আমার মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। এতদিনে অরিন্দম (শীল) এটা তুলে আনল। সেই সময় মাঝে মধ্যে মানুষ বেমালুম ভ্যানিশ হয়ে যেত। নিখোঁজ মানুষ আর ফিরত না। আমার মনে পড়ছে থিয়েটার অভিনেতা বিমান ভট্টাচাৰ্য ফিরে আসেননি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক, তাঁর বডিই পাওয়া গেল না। আসলে আমাদের মধ্যে মাঝে মাঝে গণ বিস্মৃতি কাজ করে, সেই ‘কর্পূর’-এর মাধ্যমে বিস্মৃতিকে জাগিয়ে দেওয়ার দরকার ছিল।
এই বিষয়টা আপনি কেন মঞ্চে আনলেন না?
সত্যি... এটা নিয়ে আমার ভাবা হয়নি। বিমানদার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে থিয়েটার হয়েছিল। মনীষা-রহস্য নিয়ে আমার আর করা হয়ে উঠেনি।
ভোটমুখী মানুষের কাছে এই ছবি কি কোনো বার্তা?
ভোটমুখী মানুষ কী বিচার করে ভোট দেবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। কিন্তু মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট হবে, এত কথা যাঁরা বলছেন, তাঁদের সময়টাও ঠিক এই রকম ছিল
(সিনেমার বিষয়)। তাঁদের সময় এই রকম স্ক্যাম হত। কিন্তু তখন এই রকম ভার্চুয়াল বিস্ফোরণ হয়নি। ইন্টারনেটই ছিল না। ফেসবুক, ইউটিউব, পোর্টাল, এতগুলো চ্যানেল, কিচ্ছু ছিল না। ফলে সমাজের একটা স্তরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। তাই ওই সময় এত চর্চা হয়নি। যদি আজকে ওই রকম ঘটনা ঘটত আমার নিজের ধারণা, ব্যাপারটা এত সহজে ধামা চাপা দেওয়া
যেত না।
একদিকে থিয়েটারে পর পর হাউজফুল শো, অথচ বাংলা সিনেমায় দর্শক হচ্ছে না বলে সাময়িক হল বন্ধ রাখছেন মালিকরা... এই ফারাকটা কেন?
আমি বলব, এই মুহূর্তে থিয়েটার, সিনেমা কোনোটারই অবস্থা ভালো নয়। কারণ অনেক। আমার মনে হয় এখনকার সময়ে আমরা একটা তথ্য ভাণ্ডারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এত খবর! কোনটা নেব, কোনটা ফেলব, মানুষ কনফিউসড। বিনোদন জগতেও তার প্রভাব পড়ছে। দর্শক এখন যে বিভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রভাবে তাঁরা সিনেমা, থিয়েটারেও টেলিভিশন চ্যানেলের মত টক শো চাইছেন। সিনেমা, থিয়েটার টক শো নয়।
কী করলে বাংলা ছবি ‘ধুরন্ধর’ এর মত সিনেমার সঙ্গে টক্কর দিতে পারবে?
দেখুন, ‘ধুরন্ধর’ শুধুমাত্র একটা সিনেমা নয়। ‘ধুরন্ধর’ একটা মডেল। আমাদের রাষ্ট্র এখন যে মডেলটা গেলাতে চাইছে তা হল, দেশপ্রেমের ট্যাবলেট। ‘গদর’, ‘বর্ডার’-এর আধুনিক ভার্সন ‘ধুরন্ধর’ এর মতো ফিল্ম। তাই বাংলা ছবি কেন, খান ক্যাম্পের রোমান্টিক মডেলও হালে পানি পাচ্ছে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই চালাকি বেশি দিন চলবে না।
বাংলার মডেল কি হওয়া উচিত?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ফিল্ম টেকনিশিয়ানদের জন্য যা করেছেন, তা গোটা ভারতে কেউ করেননি। কিন্তু একজন টেকনিশিয়ানের যা দৈনন্দিন খরচ, সেটা সিনেমা বানানোর টাকার মাধ্যমে প্রোডিউসার দেন। আমাদের দেখা দরকার প্রযোজকরা যেন আরও বেশি লগ্নি করতে পারেন। তবেই সিনেমার সংখ্যা ও বৈচিত্র্য দুটোই বাড়বে।
প্রিয়ব্রত দত্ত