


•ন্যাচারাল লুক না মেকআপ?
ন্যাচারাল।
চা না, কফি?
কফি।
সিনেমা না, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’?
দিদি নম্বর ওয়ান।
প্রশ্নগুলো উড়ে আসছিল প্রতিযোগীর পোডিয়াম থেকে। প্রশ্ন করছেন পায়েল সরকার। চোখের পলক ফেলার আগেই উত্তরগুলো দিয়ে যাচ্ছিলেন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৫০০ পর্ব পার করল জি বাংলার জনপ্রিয় এই রিয়ালিটি শো-টি। টানা ষোলো বছর ধরে চলা একটি গেম শো-এ বিঘ্নহীন চোদ্দ বছর ধরে সঞ্চালনা করে রচনা রেকর্ড সৃষ্টি করলেন সন্দেহ নেই। তাতে অবশ্য কোনও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস নেই রচনার রোজনামচায়। কখনো একঘেয়ে লাগেনি? রচনার উত্তর, ‘ছোট্টবেলায় ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশনের জগতে পা রেখেছিলাম। এর বাইরে আমার আর কোনো জগৎ নেই। ফলে অভ্যাস হয়ে গেছে। এটাই আমার কর্মজগৎ। তাছাড়া নিত্য নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। তাঁদের সংগ্রামের গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্তি, অবসাদ সব কোথায় গায়েব হয়ে যায়।’ রাজনৈতিক জগতেও তো আপনার স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি হয়েছে। ‘সেটা সম্ভব হয়েছে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর জন্যই। সেই জনপ্রিয়তার জোরেই আমি সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও আমাদের কাছে ‘দিদি’ মানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শো-এর ক্ষেত্রে আমি দিদি। ছয় থেকে ষাট সবার কাছে আমি দিদি’, বললেন রচনা।
কথা হচ্ছিল শ্যুটিংয়ের অবসরে। ১৫০০ পর্বের চার প্রতিযোগী ছিলেন পায়েল সরকার, ঊষসী রায়, দেবলীনা কুমার ও রাজনন্দিনী পাল। ওঁদের সঙ্গে চলল একপ্রস্থ খেলা ও খুনসুটি। তারপরেই লাঞ্চ ব্রেক। ফের প্রশ্নের মুখোমুখি রচনা। এই লম্বা সফরে সাফল্যর রহস্য কী? রচনার কথায়, ‘জীবন যুদ্ধে চোয়াল শক্ত করে লড়ে যাওয়া মহিলাদের মনের কথা বলার জায়গা এটা। সেইজন্যই শো-টা এত জনপ্রিয়।’ এই সফর থেকে প্রাপ্তি? ‘মর্যাদার লড়াইয়ে হার না মানা মহিলাদের কথা শুনতে শুনতে আমি বুঝতে শিখেছি, কোনো সমস্যাই সমস্যা নয়। সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা যায়। চাইলে অল্পেতেই সুখে থাকা যায়’, দৃপ্ত কণ্ঠে জবাব দিয়েই ফিরলেন দিদির পোডিয়ামে। মুখ তুলে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন দিদি নম্বর ওয়ান ‘আমি রেডি’।
প্রিয়ব্রত দত্ত