নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: জুয়া-সাট্টা সহ দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। কোথাও সাট্টার ঠেক থাকলে তা ভেঙে দেওয়ার নিদান দেওয়া হয়েছে মণ্ডল সভাপতিদের। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদের সুর সবার গলায়। অথচ, বাস্তবের মাটিতে উত্তর শহরতলি জুড়ে প্রকাশ্যে চলছে সাট্টা রাজ! প্রকাশ্য রাস্তায়, গুমটিতে, এমনকি, মোবাইলের মাধ্যমেও চলছে সাট্টার রমরমা কারবার। এই টোপে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। সরকার কিংবা দল যদি সাট্টার প্রবল বিরোধী হয়, তাহলে গেরুয়া শিবিরের কোন রাঘববোয়াল সাট্টা-জুয়ার কারবারের ছাড়পত্র দিচ্ছে? তা নিয়ে উত্তর শহরতলির বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দমদম থেকে পানিহাটি— সাট্টার কারবার নতুন নয়। বাম জমানাতেও সাট্টা কারবারিরা ছিল। তৃণমূল জমানায় সেই কারবার কার্যত শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। লুকিয়ে চুরিয়ে যে সাট্টা চলত, তা উঠে এসেছিল প্রকাশ্য রাস্তায়। পালাবদলের পর মাসখানেক টালমাটাল হয়ে গিয়েছিল কোটি কোটি টাকার এই ব্যবসা। শহরতলির বহু জায়গায় বিজেপির নেতা-কর্মীরা সাট্টার ঠেক ভেঙেছিলেন। অথচ, দু’মাস যেতে না যেতেই সেই কারবার শুধু আগের জায়গায় ফেরেনি, তৃণমূল জমানাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
বরানগর বাজারে ঢোকার মুখে পরপর দু’টি মাংসের দোকান ও রিকশ স্ট্যান্ড। সেখানে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে সাট্টার প্যাড লেখা হয়। ডানলপের একটি পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকা, বনহুগলি, দক্ষিণেশ্বর ও আড়িয়াদহে সাট্টার ঠেক রমরমিয়ে চলছে। কামারহাটি জুটমিলের পাশে খেজুর গলিতে একসঙ্গে পাঁচ- থেকে ছ’টি সাট্টার ঠেক চলছে। বেলঘরিয়া অটো স্ট্যান্ড, শতবার্ষিকী বাজারের পাশে প্রকাশ্যে চলছে সাট্টার কারবার।
দমদম স্টেশন লাগোয়া আন্ডারপাস, বিপিন গাঙ্গুলির গলি, এমসি গার্ডেন অটো-টোটো স্ট্যান্ড, হনুমান মন্দির লাগোয়া খালপাড়ে সবার সামনেই চলে সাট্টার ঠেক। দমদম সেন্ট মেরিজ স্কুল ছাড়িয়ে এক জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানের পাশের গলিতে একটি বাড়ির মধ্যে চলছে সাট্টার বোর্ড। একই ছবি নাগেরবাজার, গোরাবাজার, আড়াই নম্বর সহ দমদমের বিভিন্ন এলাকায়। উত্তর দমদমে এক ‘সাট্টা কিং’ রয়েছে। তার নামে অজস্র মামলা। তার নিয়ন্ত্রণেই সাট্টা চলে উত্তর দমদম সহ আশপাশের পুরসভা এলাকায়। গত মে মাসে বিরাটি স্টেশন লাগোয়া রিকশ স্ট্যান্ডে সাট্টার ঠেক বিজেপি কর্মীরা ভেঙেছিলেন। বৃহস্পতিবার দেখা গেল, সেখানেই ঠেক চলছে রমরমিয়ে। একইভাবে ভিআইপি মার্কেটের দোতলায় এক কসমেটিকের দোকানে চলে সাট্টার প্যাড লেখার কাজ। এছাড়া নিমতা, আলিপুর, বিরাটি, সোদপুর ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া অটো স্ট্যান্ড, শুখচর বাজার, খড়দহ স্টেশন লাগোয়া রিকশ স্ট্যান্ড, রহড়া বাজার, নিউ বারাকপুর ও বিশরপাড়ায় এই কারবার চলছে।
অভিযোগ, উত্তর শহরতলিতে শ’য়ে শ’য়ে সাট্টার ঠেক চললেও পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। আগে বখরার ভাগ পৌঁছাত তৃণমূলের মাতব্বরদের কাছে, এখন তা যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের একাংশের কাছে। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলার সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, কোথাও সাট্টার ঠেক থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। তাতে কাজ না হলে দলের পতাকা নিয়ে কর্মীরা যাতে ওই ঠেক ভাঙে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব মণ্ডল সভাপতিকে। নিজস্ব চিত্র