Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন বছরের শিশুকে দুষ্টুমির ‘শাস্তি’ অন্ধকার বাক্সে ‘বন্দি’, সল্টলেকের স্কুলে অমানবিক দৃশ্য, বরখাস্ত ২ শিক্ষিকা

সবে স্কুল যাওয়া শুরু করেছে। স্কুল বলতে আদতে খেলতে খেলতে শেখা। সেখানেই দুষ্টুমির অভিযোগে ভয়ানক শাস্তি পেতে হল তিন বছরের শিশুকে।

তিন বছরের শিশুকে দুষ্টুমির ‘শাস্তি’ অন্ধকার বাক্সে ‘বন্দি’, সল্টলেকের স্কুলে অমানবিক দৃশ্য, বরখাস্ত ২ শিক্ষিকা
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবে স্কুল যাওয়া শুরু করেছে। স্কুল বলতে আদতে খেলতে খেলতে শেখা। সেখানেই দুষ্টুমির অভিযোগে ভয়ানক শাস্তি পেতে হল তিন বছরের শিশুকে। সল্টলেকের এডি ব্লকের একটি প্রি-স্কুলে (প্রাক প্রাথমিক) শিশুকে অন্ধকার বাক্সের মধ্যে বন্ধ করে দিলেন দুই শিক্ষিকা। বিধাননগর উত্তর থানা এলাকার একটি প্রি-স্কুলে এমনই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। সবটাই ধরা পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। বাড়ি ফিরে শিশুটি মাকে গোটা বিষয়টি জানায়। তার ভিত্তিতে বিধাননগর উত্তর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান শিশুটির অভিভাবক। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। শিশুর পরিবার জানিয়েছে, চাইল্ড রাইটস কমিশনকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। 

Advertisement

২০ ফেব্রুয়ারি ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি বাড়ি ফেরার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে। মাকে সে বলে, শিক্ষিকারা যখন তাঁকে বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন খুব ভয় পেয়ে যায়। এ কথা শুনেই স্কুলে যান শিশুর মা। একাধিকবার বলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্দরমহলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিশুর মা। তিনি বলেন, ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দুই শিক্ষিকা আমার মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। একটি প্লাস্টিকের বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাকে। বলা হয়, দুষ্টুমি করার জন্য এটাই শিশুর শাস্তি। শুধু এখানেই শেষ নয়। একটি কাঠের টেবিল দিয়ে আটকে দেওয়া হয় বাক্সের দরজা। যাতে কোনোভাবেই দরজা ঠেলে বেরিয়ে আসতে না পারে সে। বেশ কিছুক্ষণ অন্ধকারের মধ্যে আটকে রাখা হয় খুদে পড়ুয়াকে। 
শিশুটির বাবা বিদেশে থাকেন। খবর পেয়েই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁর দাবি, স্কুল সুরক্ষিত স্থান। সেখানে তিন বছরের মেয়ের সঙ্গে এধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। মেয়ে মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। সাধারণ জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েছে। আমরা স্কুল ও শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও চাইল্ড রাইটস কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, ‘ইতিমধ্যেই ওই দুই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা যে কোনো পড়ুয়ার উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি নিয়েছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ