নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সেফ হোম’ থেকে অপহরণ! পার্ক স্ট্রিটের ইলিয়ট রোডের একটি মহিলা হোমে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা অল বেঙ্গল উইমেনস ইউনিয়ন নামের ওই হোম থেকে রাতের অন্ধকারে তিন মহিলার অন্তর্ধানকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে। হোম কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিট থানায় অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপহৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। বাকি দু’জন ভারতীয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে মাস দু’য়েক আগে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার ওই হোম থেকে তিনজন মহিলা বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি মহিলার বয়স ৩১ বছর। তিনি ঢাকার বাসিন্দা। একটি মামলায় তাঁকে হোমে রাখা হয়েছিল। বিহারের ভোজপুর জেলার বাসিন্দা এক তরুণীও একটি মামলার জেরে ওই হোমে থাকছিলেন। তাঁর বয়স ১৯ বছর। একইসঙ্গে ৩৯ বছর বয়সি মূক ও বধির এক মহিলাও সেখান থেকে গায়েব হয়ে যান। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে হোমে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আবাসিকদের তালিকা মেলানোর সময় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তিনজন গায়েব। আশপাশে খোঁজ করা হলেও পাওয়া যায়নি তাঁদের। ঘনীভূত হয় রহস্য।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, এরপর হোম কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তারা যাবতীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। ২০ জুন রাতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। দেখা যায়, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই তিনজনকে হোম থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। অত রাতে কারা এসেছিল হোমে? কেন অপরিচিতদের সঙ্গে পালিয়ে গেলেন তাঁরা? এমন একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেউ বা কারা অসৎ উদ্দেশ্যেই অপহরণ করেছে। তিন মহিলাকে অন্যত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। লালবাজার সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত অপহৃতদের সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনায় হোমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দু’মাস আগে বেপাত্তা হলেও এত দেরিতে জানা গেল কেন? এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। প্রতিক্রিয়া জানতে ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) রাহুল দে’কে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেননি তিনি।