সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বাজারে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে তিনমাস পুরুলিয়া জেলার শিশুশিক্ষা কেন্দ্র(এসএসকে) এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের(এমএসকে) শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন হয়নি। ফলে তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। এসএসকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়ক-সহায়িকা, এমএসকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা বলা হয়। সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের বেতন পাঁচহাজার টাকা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়। অথচ তিনমাস ধরে বেতন না পেয়ে জেলার এই তিনহাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা সমস্যায় পড়েছেন।
প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে বাম আমলে এসএসকে এবং এমএসকে গড়ে তোলা হয়েছিল। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশুশিক্ষা মিশনের নিয়ম অনুযায়ী এসমস্ত কেন্দ্র পরিচালিত হয়। বর্তমানে পুরুলিয়া জেলায় প্রায় আড়াইহাজার এসএসকে এবং প্রায় ৭০০জন এমএসকে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। কিন্তু তাঁরা জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতন এখনও পাননি। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহও শেষ। তিনমাস ধরে বেতন না পাওয়ায় এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা সংসার চালাতে সমস্যায় পড়ছেন। বাজারে মুদিখানা, সবজির দোকানদাররা ধার দিতে চাইছে না। বাচ্চাদের স্কুল, টিউশনি ফি দিতে সমস্যা হচ্ছে। একটি সংগঠনের দাবি, বেতন বৃদ্ধি-সংক্রান্ত কোনো সরকারি নির্দেশিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে অর্ডারের অভাবে নতুন বেতনের বিল ট্রেজারিতে পাঠানো যাচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রীর তরফে তাড়াতাড়ি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এখনও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ওই শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমস্যায় পড়েছেন। প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের বদলে সরাসরি ট্রেজারি থেকে বেতন দেওয়ার নতুন পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জেরে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
নিখিলবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্প্রসারক ও সহায়ক সমিতির সুনীতি গাঁতাইত বলেন, বেতন বৃদ্ধি তো দূর অস্ত, পুরনো কাঠামোর বেতন এখন পর্যন্ত মেলেনি। তিনমাস ধরে টাকা না পাওয়ায় ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোনোরকমে সংসার চলছে। আশা করছি, তাড়াতাড়ি বেতনের টাকা মিলবে।