নয়াদিল্লি: যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন চলছেই। সোনামের সঙ্গেই অনশনে বসেছিলেন আরও তিন পড়ুয়া। রবিবার ২২তম দিনেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। পুলিশের প্রবল চাপ সত্ত্বেও কোনোভাবেই পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। সোমবারের সংসদ চলো কর্মসূচিও বন্ধ হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা। তিন অনশনকারীর প্রত্যেকেই সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন আইসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইসার সভানেত্রী নেহা। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার তিনি। ২১ দিন অনশনের ফলে তাঁর সাড়ে সাত কেজি ওজন কমে গিয়েছে। নেহার সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই পিএইচডি স্কলার আমিন আমিতোজ এবং মনীশ কুমার। আমিন দিল্লির ডঃ বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। ২০২০ এবং ২০২১ সালের কৃষক বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আমিনের ওজন কমেছে প্রায় ১০ কেজি। অন্যদিকে, আইসার উত্তরপ্রদেশের সভাপতি মনীশ এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর ১০ কেজিরও বেশি ওজন কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোনাম ওয়াংচুকের মতো একই কায়দায় তাঁদেরও পুলিশ তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন নেহা। রবিবার তিনি বলেন, ‘শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ র্যাফ ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য আইসার তাঁবুতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য আমাদের অনশন থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা। যদিও প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক থাকায় পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।’ নেহার অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার পড়ুয়া বা সোনাম ওয়াংচুককে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। আর প্রশাসন জোর করে স্বেচ্ছা অনশন ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।’
সোনামকে অনশন মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার অনশনে বসেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিত্ দিপকে। এদিন এক্স হ্যান্ডলে তিনি অভিযোগ করেন, ২০ তারিখের সংসদ অভিযান ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ‘ক্র্যাকডাউন’-এর প্রস্তুতি চালাচ্ছে। সম্ভবত রবিবার গভীর রাত বা সোমবার ভোরে অভিযান চালানো হবে বলে আশঙ্কা তাঁর। ২০ তারিখের অভিযানে সকলকে অংশ নেওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন অভিজিত্। এদিকে ককরোচ পার্টির দাবি, অনশন মঞ্চ ও তার আশপাশের বিদ্যুত্ সংযোগ কেটে দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন। ফলে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের তীব্র গরমের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে। ছবি: সমাজমাধ্যম