


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : রাজস্থানের কুচামন থানা এলাকার ব্যবসায়ী রমেশ রুলানিয়া খুনের ঘটনায় জড়িত শার্প শ্যুটারের দল ঘটনার পর চারধাম ঘুরেছে। পুলিশের তাড়ার মাঝেই বিভিন্ন মন্দিরে গিয়েছে। মস্তক মুণ্ডন করিয়েছে। যাতে পাপ থেকে নিস্তার মেলে। কলকাতায় এসে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। ফুলবাগানে ধরা পড়া তিন শার্প শ্যুটারকে জিজ্ঞাসবাদ করে এই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। শুধু ঠাকুর-দেবতা দর্শন করে ভক্তি প্রদর্শনই নয়, কুচমিনের জিমে নৃশংস খুনের ঘটনায় যুক্তরা সবাই শুদ্ধ শাকাহারী, অর্থাৎ নিরামিশাষী। যা জেনে তাজ্জব তদন্তকারীরা।
৭ অক্টোবর জিমের মধ্যে খুন হন ব্যবসায়ী রমেশ রুলানিয়া। চার শার্প শ্যুটার জিমে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে তাকে খুন করে পালায়। জানা যায় গণপত গুজ্জর, মহেশ গুজ্জর ও ধর্মেন্দ্র গুজ্জর সহ চারজন রাজস্থানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার রাওয়াতরাম স্বামী ওরফে রোহিত গোদারা গ্যাংয়ের সদস্য। তিন জনের নামে এক লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল রাজস্থান পুলিশ। বর্তমানে পর্তুগালে আশ্রয় নেওয়া রোহিত গোদারার গ্যাংই বিখ্যাত পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত। সম্প্রতি অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়িতে হামলার ঘটনাতেও যুক্ত রোহিতের গ্যাং। পর্তুগালে বসেই কুচামনের ব্যবসায়ী খুনের দায় স্বীকার করেছিল রোহিত গ্যাং। এহেন কুখ্যাত গ্যাংয়ের সদস্যরা বাংলায় আশ্রয় নিতে গিয়েছে, খবর পাওয়ার পরই তাদের ধাওয়া করে রাজস্থান পুলিশের টিম কলকাতায় আসে।
তদন্তকারীদের কাছে ধৃতরা জানিয়েছে, তারা শার্প শ্যুটার হলেও, ভগবানে বিশ্বাসী। যে কোনও কাজের আগে ও পরে মন্দিরে গিয়ে পুজো দেয়। ব্যবসায়ী রমেশকে খুনের আগে তারা ব্যস্ততার কারণে মন্দিরে যেতে পারেনি। খুনের পর তারা সোজা চলে যায় বৈষ্ণোদেবীতে। সেখানে সমস্ত পরনের যাবতীয় জামাকাপড় ছেড়ে নতুন কেনে। মাথা মুণ্ডন করায় তিনজন। পাপস্খলন করতেই এটি করেছিল। এরপর সেখানে বড় করে পুজো দেয়। এরপর স্থানীয় একটি গাড়ি ভাড়া করে চলে আসে দিল্লি। সেখান থেকে এরপর পুণ্যলাভের আশায় কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী , ও যমুনোত্রী যাত্রা। চারধামে পুজো দেওয়ার পর গরিব লোকজনকে বস্ত্র বিতরণ ও খাবারের ব্যবস্থা করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার। নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে সেখানে ঢোকার সাহস দেখায়নি। যোগী রাজ্যে অন্য মন্দির দর্শন করে। তিন শ্যুটার জানিয়েছে, তারা জানত কালীঘাটের মন্দির খুব জাগ্রত। এখানে পুজো দিলে সমস্ত পাপ মুছে যায়। সেই কারণেই তারা কলকাতায় এসেছিল। তদন্তকারীদের কাছে তারা জানিয়েছে, শুধু মন্দির যাওয়া নয় হিন্দুদের সমস্ত রীতিনীতি কঠোরভাবে পালন করে। নিরামিষ খাবার খায়। এমনকী হেফাজতেও তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সবজি-রুটি ছাড়া আর কিছুই খাবে না।